দখলমুক্ত হয়ে খেলার মাঠ এখন শিশুদের জন্য উন্মুক্ত
- আপডেট সময় : ০১:০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নওকৈড় পূর্বপাড়া গ্রামের একটি খেলার মাঠ সরকারি দখলে নিয়ে চাষাবাদ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। শনিবার বিকেলে সরেজমিন মাঠটি পরিদর্শন করার পর তিনি জায়গাটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নিশ্চিত করেন এবং এর দখল বুঝে নেন। রবিবার সকালে তিনি জানান, মাঠটি এখন স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নওকৈড় পূর্বপাড়া গ্রামের মাঠটি পরিদর্শন করে জমিটি সরকারি দখলে নিয়ে সেখানে চাষাবাদ না করার নির্দেশ দেন এবং মাঠটি।
এর আগে, মাঠটি চাষ করে দখলের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হেকমত আলী সরকার ও তার পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে ট্রাক্টর ব্যবহার করে মাঠটির একাংশ চাষ করা হয়। দীর্ঘদিনের পরিচিত এই খেলার মাঠটি কৃষি জমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, জায়গাটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান গুচ্ছগ্রাম তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে মাটি ভরাট করলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর থেকেই মাঠটি স্থানীয়দের খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সলপ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নানও জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি বলে নিশ্চিত করেছেন এবং জানান যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অব্যবহৃত জমিটি স্থানীয় তরুণেরা খেলার কাজে ব্যবহার করতেন।
তবে ভিন্ন দাবি করেছেন অভিযুক্ত হেকমত আলী সরকার। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের পৈতৃক জমি দখল করে মাটি ভরাট করা হয়েছিল, এখন তারা নিজেদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। জমির হালনাগাদ খাজনা-খারিজ না থাকলেও এ নিয়ে মামলা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাঠটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে এ ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ইউএনও রায়হানুল ইসলাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারি জমিতে কোনো ধরনের চাষাবাদ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড আর সহ্য করা হবে না।

























