ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধুনটে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি

  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের হিমেল হাওয়া পুরোপুরি শুরু না হলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফসলি মাঠগুলো এখন চাষিদের পদচারণায় মুখর। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে বাড়তি মুনাফার আশায় প্রান্তিক কৃষকরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে দারুণ ব্যস্ত। জমি তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও পরিচর্যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় পার করছেন তারা। মাঠে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, শসা, মুলা, লাউ, করলা, মরিচ, পালং ও ধনিয়া পাতাসহ নানা জাতের সবজির চাষাবাদ চলছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে সবজি আবাদ হচ্ছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে রবি মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যা শেষ হয়েছে। কোথাও জমিতে চলছে হালচাষ ও সার প্রয়োগ, কোথাও গাছে দেওয়া হচ্ছে কীটনাশক।

ক্ষুদ্রপীরহাটি গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, মৌসুমের একদম শুরুতে বাজারে সবজি তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়, যা তাদের উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিতে সহায়তা করে। তবে আগাম চাষের ঝুঁকি ও খরচ সম্পর্কে সতর্ক করে কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, জমি প্রস্তুতি, সার, সেচ ও পোকা দমনে বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। ভালো দাম না পেলে লাভের বদলে লোকসানের ভয়ও থাকে। কৃষক রিপন মিয়া তার ১৮ শতক জমির করলা চাষের হিসাব দিয়ে বলেন, বীজ ও সার বাবদ ৭ হাজার এবং সুতা ও বাঁশসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে তার মোট ২০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন। সুতা বাশসহ প্রয়োজনীয় খরচ হয়েছে আরও ৯ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন তারা।

উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুরুন নাহার জানান, বাজারে সবজির চড়া দাম থাকায় কৃষকদের মধ্যে আগাম চাষের আগ্রহ বেড়েছে। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন, যাতে তারা সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে পারেন। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধুনটে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

শীতের হিমেল হাওয়া পুরোপুরি শুরু না হলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফসলি মাঠগুলো এখন চাষিদের পদচারণায় মুখর। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে বাড়তি মুনাফার আশায় প্রান্তিক কৃষকরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে দারুণ ব্যস্ত। জমি তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও পরিচর্যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় পার করছেন তারা। মাঠে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, শসা, মুলা, লাউ, করলা, মরিচ, পালং ও ধনিয়া পাতাসহ নানা জাতের সবজির চাষাবাদ চলছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে সবজি আবাদ হচ্ছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে রবি মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যা শেষ হয়েছে। কোথাও জমিতে চলছে হালচাষ ও সার প্রয়োগ, কোথাও গাছে দেওয়া হচ্ছে কীটনাশক।

ক্ষুদ্রপীরহাটি গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, মৌসুমের একদম শুরুতে বাজারে সবজি তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়, যা তাদের উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিতে সহায়তা করে। তবে আগাম চাষের ঝুঁকি ও খরচ সম্পর্কে সতর্ক করে কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, জমি প্রস্তুতি, সার, সেচ ও পোকা দমনে বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। ভালো দাম না পেলে লাভের বদলে লোকসানের ভয়ও থাকে। কৃষক রিপন মিয়া তার ১৮ শতক জমির করলা চাষের হিসাব দিয়ে বলেন, বীজ ও সার বাবদ ৭ হাজার এবং সুতা ও বাঁশসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে তার মোট ২০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন। সুতা বাশসহ প্রয়োজনীয় খরচ হয়েছে আরও ৯ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন তারা।

উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুরুন নাহার জানান, বাজারে সবজির চড়া দাম থাকায় কৃষকদের মধ্যে আগাম চাষের আগ্রহ বেড়েছে। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন, যাতে তারা সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে পারেন। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।