ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারের মাঝে সহায়তার চাল বিতরণ দুই দফায় ৬ হাজার ৫৯৮ টাকা বাড়ল সোনার দাম বয়সের ভারে নুয়ে বৃদ্ধ বারেকের সংসার চলে শাপলা বিক্রির আয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইরানের স্পিকার |: যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছে মার্কিন জনগণ পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন বাস্তবায়ন জানুয়ারিতে, ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে কাঠামো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য বৈঠক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকানদের হটিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়

বয়সের ভারে নুয়ে বৃদ্ধ বারেকের সংসার চলে শাপলা বিক্রির আয়ে

  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল বারেক পাটোয়ারী। বয়সের ভার আর অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তিনি। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তার জীবনসংগ্রাম। প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তিনি চলে যান বিলের ধারে, এরপর বুকসমান পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে সংগ্রহ করেন শাপলা।

সংগৃহীত শাপলা মাথায় নিয়ে তিনি ছুটে যান বিভিন্ন হাটবাজার ও পাড়া-মহল্লায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে শাপলা বিক্রি করে তার আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এর মধ্য থেকে আবার ৫০ টাকা যাতায়াত খরচ বাবদ চলে যায়। বাকি টাকা দিয়েই সাত সদস্যের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয় তাকে। তিনি জানান, এক মুঠা শাপলা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করার আশা করলেও অনেক সময় ১০ টাকা দামেই ছাড়তে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় এই আয় অত্যন্ত সামান্য। এক মুঠা শাপলার দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা চাইলেও অনেক সময় ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

শুধু শাপলা নয়, বছরের অন্য সময় বিল, ফসলি জমি বা বাগান থেকে শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বারেক। তার পরিবারে ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিসহ মোট সাতজন সদস্য রয়েছেন। ছেলের আয়ের পাশাপাশি নিজের এই কষ্টার্জিত সামান্য আয় দিয়েই পরিবারের ব্যয় নির্বাহের কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শরীরের নানা অসুস্থতা ও বয়সের কারণে কাজ করা অনেক সময় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে, তবুও পেটের দায়ে তাকে প্রতিদিন কাজে বের হতে হয়। বাড়িতে ফিরে গোসল সেরে সেই শাপলা নিয়ে বের হন বিক্রির জন্য। এত বড় পরিবারের ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই জীবনসংগ্রাম চললেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি তিনি। বয়স্ক ভাতা বা সরকারি কোনো সহায়তা তার ভাগ্যে জোটেনি বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, এর আগে বা বর্তমান সময়েও কোনো সরকারি সহায়তা তার কাছে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, আব্দুল বারেক পাটোয়ারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে তাকে বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ও কিছু পাননি, এখনো পান না। জীবিকার তাগিদে রোদ-বৃষ্টি কিংবা কাদা-পানি কোনো কিছুই তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

বয়সের ভারে নুয়ে বৃদ্ধ বারেকের সংসার চলে শাপলা বিক্রির আয়ে

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল বারেক পাটোয়ারী। বয়সের ভার আর অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তিনি। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তার জীবনসংগ্রাম। প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তিনি চলে যান বিলের ধারে, এরপর বুকসমান পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে সংগ্রহ করেন শাপলা।

সংগৃহীত শাপলা মাথায় নিয়ে তিনি ছুটে যান বিভিন্ন হাটবাজার ও পাড়া-মহল্লায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে শাপলা বিক্রি করে তার আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এর মধ্য থেকে আবার ৫০ টাকা যাতায়াত খরচ বাবদ চলে যায়। বাকি টাকা দিয়েই সাত সদস্যের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয় তাকে। তিনি জানান, এক মুঠা শাপলা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করার আশা করলেও অনেক সময় ১০ টাকা দামেই ছাড়তে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় এই আয় অত্যন্ত সামান্য। এক মুঠা শাপলার দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা চাইলেও অনেক সময় ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

শুধু শাপলা নয়, বছরের অন্য সময় বিল, ফসলি জমি বা বাগান থেকে শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বারেক। তার পরিবারে ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিসহ মোট সাতজন সদস্য রয়েছেন। ছেলের আয়ের পাশাপাশি নিজের এই কষ্টার্জিত সামান্য আয় দিয়েই পরিবারের ব্যয় নির্বাহের কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শরীরের নানা অসুস্থতা ও বয়সের কারণে কাজ করা অনেক সময় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে, তবুও পেটের দায়ে তাকে প্রতিদিন কাজে বের হতে হয়। বাড়িতে ফিরে গোসল সেরে সেই শাপলা নিয়ে বের হন বিক্রির জন্য। এত বড় পরিবারের ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই জীবনসংগ্রাম চললেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি তিনি। বয়স্ক ভাতা বা সরকারি কোনো সহায়তা তার ভাগ্যে জোটেনি বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, এর আগে বা বর্তমান সময়েও কোনো সরকারি সহায়তা তার কাছে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, আব্দুল বারেক পাটোয়ারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে তাকে বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ও কিছু পাননি, এখনো পান না। জীবিকার তাগিদে রোদ-বৃষ্টি কিংবা কাদা-পানি কোনো কিছুই তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারে না।