ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী ফেনীর ফাজিলপুরে ১৯ নভেম্বর বিনামূল্যে রোগী দেখবেন অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মুম্বাই পুলিশের নোটিশে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেলেন অভিনেতা ইমরান

সাংবাদিক শিমুলের ‘খুনি’ মেয়র মিরু ঢাকায় গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 325
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত‌্যামামলায় স্থানীয় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ঢাকার পুলিশের সহায়তায় সিরাজগঞ্জ পুলিশ শ‌্যামলী থেকে রাতে তাকে (মিরু) গ্রেপ্তার করেছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমানও শ‌্যামলী থেকে মিরুকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “মূলত সিরাজগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ সহায়তা করে। আসামিকে সিরাজগঞ্জ নেওয়া হচ্ছে।”

শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মিরু সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাংবাদিক খুনের অভিযোগ আসার পর রোববারই তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে ক্ষমতাসীন দলটির উপজেলা কমিটি।

তাকে গ্রেপ্তারের খবরে রাতে শাহজাদপুরে আনন্দ মিছিল হয়।

শাহজাদপুরে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক পক্ষ মেয়র মিরুর বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি গুলি চালান বলে পুলিশ জানায়।

এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন শুক্রবার তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মেয়র মিরু নিজে গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, প্রতিপক্ষের গুলির জবাবে তিনি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছিলেন।

অন‌্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সেদিন একমাত্র মেয়র মিরুর আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছিল।

সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী ওই ঘটনায় একটি হত‌্যা মামলা দায়ের করেন। তাতে মেয়র মিরু, তার ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধরের পর সেদিনের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল।

বিজয়কে মারধরের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। তাতেও মিরু, তার ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুই মামলায় পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসির উদ্দিনসহ সাতজনকে আগে গ্রেপ্তার করেছিল। এখন মিরুসহ আটজন গ্রেপ্তার হলেন।

শিমুল মারা যাওয়ার পর মিরুকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলে সাংবাদিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।

সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস‌্য ও স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী মো. নাসিমও বলেন, কারও অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাংবাদিক শিমুলের ‘খুনি’ মেয়র মিরু ঢাকায় গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত‌্যামামলায় স্থানীয় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ঢাকার পুলিশের সহায়তায় সিরাজগঞ্জ পুলিশ শ‌্যামলী থেকে রাতে তাকে (মিরু) গ্রেপ্তার করেছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমানও শ‌্যামলী থেকে মিরুকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “মূলত সিরাজগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ সহায়তা করে। আসামিকে সিরাজগঞ্জ নেওয়া হচ্ছে।”

শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মিরু সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাংবাদিক খুনের অভিযোগ আসার পর রোববারই তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে ক্ষমতাসীন দলটির উপজেলা কমিটি।

তাকে গ্রেপ্তারের খবরে রাতে শাহজাদপুরে আনন্দ মিছিল হয়।

শাহজাদপুরে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক পক্ষ মেয়র মিরুর বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি গুলি চালান বলে পুলিশ জানায়।

এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন শুক্রবার তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মেয়র মিরু নিজে গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, প্রতিপক্ষের গুলির জবাবে তিনি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছিলেন।

অন‌্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সেদিন একমাত্র মেয়র মিরুর আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছিল।

সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী ওই ঘটনায় একটি হত‌্যা মামলা দায়ের করেন। তাতে মেয়র মিরু, তার ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধরের পর সেদিনের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল।

বিজয়কে মারধরের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। তাতেও মিরু, তার ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুই মামলায় পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসির উদ্দিনসহ সাতজনকে আগে গ্রেপ্তার করেছিল। এখন মিরুসহ আটজন গ্রেপ্তার হলেন।

শিমুল মারা যাওয়ার পর মিরুকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলে সাংবাদিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।

সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস‌্য ও স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী মো. নাসিমও বলেন, কারও অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।