নিউইয়র্কে নিখোঁজ বাংলাদেশি নেতার মৃত্যু নিশ্চিত
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর থেকেই তার কোনো হদিস মিলছিল না এবং সেদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান গত ৭ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যমের কাছে খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার (OCME)-এর কাছে পাঠায়। নিউইয়র্ক সিটির OCME সাধারণত আকস্মিক, সন্দেহজনক, অজ্ঞাত বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে এবং প্রয়োজন হলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তেও সহায়তা করে। কর্মস্থলে কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকার পর পরিচিতজনেরা তার খোঁজ শুরু করেন। খোকনের নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কি না, কিংবা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসের হাতে আটক হয়েছেন কি না—এমন নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
কাজী আজিজুল হক খোকন প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি মাগুরা জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্থানীয় কমিউনিটিতে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন তথ্যমতে, তিনি অসুস্থ ছিলেন। এছাড়া তার বৈধ কাগজপত্র সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা উঠে এসেছে। সবশেষ ৬ ও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় নিজের বাসায় একা বসবাস করতেন। হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তার বাসায়ও পুলিশ যায়।
নিখোঁজের বিষয়টি ৫ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই তার সন্ধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পুলিশ তার বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে তল্লাশি চালালেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনার আগে ৪ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত তার ফোন সচল ছিল বলে জানা গেছে। ফোনে কল দিলেও তিনি রিং হওয়া অবস্থায় তা ধরেননি। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক পুলিশের নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিখোঁজের পর গত ৭ অক্টোবর রাতে জ্যাকসন হাইটসে কমিউনিটির নেতারা তার বর্তমান অবস্থা ও করণীয় নিয়ে একটি মতবিনিময় সভাও করেন। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও কমিউনিটির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান করছিলেন। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে তার মরদেহ ব্রুকলিনের ৫৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত ওসিএমই (OCME)-এর ফরেনসিক প্যাথলজি অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস সেন্টারে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর এভাবে তার মৃত্যুর খবর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

























