ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতে ইরান ভীত নয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না : আরাকচি

  • আপডেট সময় : ০২:২২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 51
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি গতকাল রোববার জানিয়েছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি ত্যাগ করবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতে ইরান কোনভাবেই ভীত নয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এর আগে, সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর তেহরানের মারাত্মক দমন-পীড়নের ঘটনায় ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।

গতকাল রোববার কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগে তিনজন প্রভাবশালী সংস্কারবাদীকে গ্রেফতার করেছে।

ইরান জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করার অভিযোগে বিক্ষোভের আগে গ্রেফতার হওয়া নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে আরও কয়েক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার তেহরানে এএফপির অংশগ্রহণে এক ফোরামে বলেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনাগুলোতে ইরান খুব কম বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে এবং তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে আমেরিকান পক্ষ পুনরায় আলোচনাকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে কি না।

পরে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা বা চলমান আলোচনা নিয়ে ‘কৌশলগত অংশীদার’ চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার বিষয়ে পরামর্শ করছে তেহরান।
আব্বাস আরাকচি বলেন, ‘কেন আমরা সমৃদ্ধকরণের ওপর এত জোর দিচ্ছি এবং আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও তা ত্যাগ করতে চাইছি না? কারণ আমরা মনে করি, আমাদের আচরণ নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই।’

আব্বাস আরব সাগরে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে বলেন যে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনে আমরা ভীত নই।

গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো ওমানে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সময়ের জন্য যোগ দিয়েছিল।

ইরান চাইছে, তার ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।

আরাকচি বলেন, এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হতে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলো ও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ বলে মনে করা ইসরাইল বলেছে যে ইরান পারমাণবিক বোমা অর্জনের চেষ্টা করছে।

ইসরাইলের এই অভিযোগ ইসলামী প্রজাতন্ত্র অস্বীকার করে আসছে।

আরাকচি বলেন, তারা আমাদের পারমাণবিক বোমাকে ভয় পায়, অথচ আমরা কোনো পারমাণবিক বোমা চাই না। আমাদের পারমাণবিক বোমা হলো— বড় শক্তিগুলোর কাছে ‘না’ বলার ক্ষমতা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতে ইরান ভীত নয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না : আরাকচি

আপডেট সময় : ০২:২২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি গতকাল রোববার জানিয়েছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি ত্যাগ করবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতে ইরান কোনভাবেই ভীত নয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এর আগে, সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর তেহরানের মারাত্মক দমন-পীড়নের ঘটনায় ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।

গতকাল রোববার কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগে তিনজন প্রভাবশালী সংস্কারবাদীকে গ্রেফতার করেছে।

ইরান জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করার অভিযোগে বিক্ষোভের আগে গ্রেফতার হওয়া নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে আরও কয়েক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার তেহরানে এএফপির অংশগ্রহণে এক ফোরামে বলেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনাগুলোতে ইরান খুব কম বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে এবং তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে আমেরিকান পক্ষ পুনরায় আলোচনাকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে কি না।

পরে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা বা চলমান আলোচনা নিয়ে ‘কৌশলগত অংশীদার’ চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার বিষয়ে পরামর্শ করছে তেহরান।
আব্বাস আরাকচি বলেন, ‘কেন আমরা সমৃদ্ধকরণের ওপর এত জোর দিচ্ছি এবং আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও তা ত্যাগ করতে চাইছি না? কারণ আমরা মনে করি, আমাদের আচরণ নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই।’

আব্বাস আরব সাগরে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে বলেন যে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনে আমরা ভীত নই।

গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো ওমানে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সময়ের জন্য যোগ দিয়েছিল।

ইরান চাইছে, তার ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।

আরাকচি বলেন, এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হতে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলো ও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ বলে মনে করা ইসরাইল বলেছে যে ইরান পারমাণবিক বোমা অর্জনের চেষ্টা করছে।

ইসরাইলের এই অভিযোগ ইসলামী প্রজাতন্ত্র অস্বীকার করে আসছে।

আরাকচি বলেন, তারা আমাদের পারমাণবিক বোমাকে ভয় পায়, অথচ আমরা কোনো পারমাণবিক বোমা চাই না। আমাদের পারমাণবিক বোমা হলো— বড় শক্তিগুলোর কাছে ‘না’ বলার ক্ষমতা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

বিডিসংবাদ/এএইচএস