ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদ বিমানবন্দর চালু হলেও ফিরছে না বিমানের স্বাভাবিক ফ্লাইট

  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বন্দরটি সচল হলেও বাংলাদেশ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হচ্ছে, যা বিপাকে ফেলেছে হাজার হাজার প্রবাসী যাত্রীকে। শুক্রবার রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সেদিন বিমানবন্দরটিতে মোট ৬৭৬টি ফ্লাইটের আসা-যাওয়ার সূচি ছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, গত শনিবার থেকে ১৬ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত সৌদি আরবগামী প্রায় ১০৭টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মোট ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। শুক্রবার রিয়াদের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সূচিতে থাকা ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ অবতরণ করেছে। তবুও বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ইউএস-বাংলার ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সূচিতে থাকা ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ ফ্লাইট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

পরিসংখ্যান বলছে, বিঘ্নিত সরাসরি ফ্লাইটের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিকল্প পথ হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে আসন সংখ্যা ১৪৮টি বাড়ানো হয়েছে এবং জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট যুক্ত করা হয়েছে। টিকেটের পরিবর্তনের জন্য প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত যাত্রীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প এই ব্যবস্থায় যাত্রীদের বাড়তি সময় ও খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাই দ্রুত স্বাভাবিক ফ্লাইট চালুর আশায় প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করায় প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা বেড়েছে ১৪৮টি। ছুটি শেষ হওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে প্রবাসীরা দ্রুত স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

রিয়াদ বিমানবন্দর চালু হলেও ফিরছে না বিমানের স্বাভাবিক ফ্লাইট

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বন্দরটি সচল হলেও বাংলাদেশ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হচ্ছে, যা বিপাকে ফেলেছে হাজার হাজার প্রবাসী যাত্রীকে। শুক্রবার রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সেদিন বিমানবন্দরটিতে মোট ৬৭৬টি ফ্লাইটের আসা-যাওয়ার সূচি ছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, গত শনিবার থেকে ১৬ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত সৌদি আরবগামী প্রায় ১০৭টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মোট ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। শুক্রবার রিয়াদের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সূচিতে থাকা ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ অবতরণ করেছে। তবুও বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ইউএস-বাংলার ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সূচিতে থাকা ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ ফ্লাইট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

পরিসংখ্যান বলছে, বিঘ্নিত সরাসরি ফ্লাইটের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিকল্প পথ হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে আসন সংখ্যা ১৪৮টি বাড়ানো হয়েছে এবং জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট যুক্ত করা হয়েছে। টিকেটের পরিবর্তনের জন্য প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত যাত্রীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প এই ব্যবস্থায় যাত্রীদের বাড়তি সময় ও খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাই দ্রুত স্বাভাবিক ফ্লাইট চালুর আশায় প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করায় প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা বেড়েছে ১৪৮টি। ছুটি শেষ হওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে প্রবাসীরা দ্রুত স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন।