ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সামনে দ্বিমুখী বড় চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১২ অক্টোবর সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পাঁচ ধাপের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সচিব আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের দিনগুলো হলো ২১ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২৯ এপ্রিল, ১৩ মে এবং ২৭ মে। এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, আসন্ন এই নির্বাচনে সরকার ও প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই সরকারের লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব। নির্বাচনে কোনো পক্ষ প্রভাব বিস্তার করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচনের এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি বড় ধরনের দুই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। দলের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সামনে এখন দ্বিমুখী দায়িত্ব। সরকারপ্রধান হিসেবে তাকে যেমন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি দলের প্রধান হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও নেতাদের হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখাও তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১১ অক্টোবর রোববার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি থেকে কেবল একক প্রার্থী দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো ও স্থানীয় পর্যায়ে সমর্থন সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবার দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের ভালো ফল অর্জনও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক ইউনিয়নেই ১০ থেকে ১২ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থী থেকে যোগ্য, ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়দের খুঁজে বের করাই এখন বড় পরীক্ষা। মনোনয়নবঞ্চিতদের অসন্তোষ সামাল দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর উদাহরণ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, যেখানে দলের অন্তত ৭৮টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
নির্বাচনী সহিংসতাও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ছয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় ১০১ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের সাত ধাপের নির্বাচনে সংঘাতের ঘটনায় ১১৩ জন নিহত এবং সাত হাজার ২০১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে তৃণমূলের সংহতি রক্ষা করাই এখন বিএনপির জন্য প্রধানতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
























