আন্তর্জাতিক মানের সার্জন তৈরিতে অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহার উদ্যোগ
শমরিতা হাসপাতালে চালু হলো অত্যাধুনিক ‘অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’
- আপডেট সময় : ১০:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 52
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
বাংলাদেশে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ সার্জন তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন দেশের প্রখ্যাত জেনারেল, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক ও বেরিয়াট্রিক সার্জন অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহা।

তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় রাজধানীর পান্থপথে শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডে ‘অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সেন্টার অ্যান্ড হার্নিয়া ক্লিনিক’-এর অধীনে গত বুধবার (২৯ জুলাই) এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো বিশ্বমানের “অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার”।


সেন্টারটির উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শমরিতা হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আর. এ. চৌধুরী পারভেজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ডা. এ বি এম হারুন, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সেন্টার ও হার্নিয়া ক্লিনিক এবং অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক ট্রেনিং সেন্টারের চিফ কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. পি. কে. সাহাসহ হাসপাতালের অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ডা. এ বি এম হারুন তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “শমরিতা হাসপাতাল সবসময় রোগীদের আধুনিক ও বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে বদ্ধপরিকর। অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহার এই উদ্যোগের ফলে দেশের তরুণ চিকিৎসকরা দেশেই আন্তর্জাতিক মানের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবেন, যা আমাদের স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”

বিশিষ্ট গাইনি ও প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ সালেহা বেগম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি। এই সেন্টারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ সার্জনরা নারীদের জটিল রোগ নিরাময়ে আরও নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।”

অধ্যাপক ডা. পি. কে. সাহা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে ল্যাপারোস্কপিক ও বেরিয়াট্রিক সার্জারির পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হলেও আন্তর্জাতিক মানের বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ এখনও বেশ সীমিত। আমাদের তরুণ ও উদীয়মান সার্জনদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের সার্জিক্যাল দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতেই আমরা এই ‘অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ চালু করেছি। আশা করি, এখান থেকে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের সার্জনরা দেশের রোগীদের আরও নিরাপদ, নিখুঁত ও উন্নত মানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া সেন্টারটির উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত অতিথি ও চিকিৎসকমণ্ডলী নিজ নিজ বক্তব্য প্রদান করেন।

বাংলাদেশে ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও, সঠিক ও আন্তর্জাতিক মানের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বড় অভাব রয়েছে। তরুণ সার্জনদের এই অভাব পূরণ করতে এবং ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির খুঁটিনাটি শিখিয়ে তাদের আরও দক্ষ করে তুলতেই এই পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।

যেসব তরুণ চিকিৎসক, রেসিডেন্ট সার্জন এবং মেডিকেল প্রফেশনালরা ল্যাপারোস্কপিক, হার্নিয়া এবং বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান বা নিজেদের সার্জিক্যাল দক্ষতাকে আরও নিখুঁত করতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেনিং প্রোগ্রামটি একটি দারুণ সুযোগ।



















