ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে সরকার, জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফার, ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ

ভূত নয়, অদৃশ্য শব্দেই তৈরি হয় ভয়ের অনুভূতি : গবেষণা

  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 43
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

পুরোনো বা পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকলেই অনেকের অকারণে অস্বস্তি বা ভয় লাগে। অনেকেই একে অতিপ্রাকৃত কিছু বলে মনে করেন। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, এর পেছনে থাকতে পারে মানুষের কানে শোনা যায় না এমন এক ধরনের নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দ, যা অজান্তেই মানুষের মনের ওপর প্রভাব ফেলে।

গবেষণাটি আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ইনফ্রাসাউন্ড’ নামে পরিচিত খুব কম কম্পাঙ্কের শব্দ (প্রায় ২০ হার্টজের নিচে) মানুষের কানে ধরা পড়ে না। কিন্তু এই কম্পন দেয়াল ভেদ করে সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের শরীরে চাপ তৈরি করে। পুরোনো পাইপলাইন, বায়ু চলাচলের যন্ত্র এবং শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি থেকে এমন কম্পন তৈরি হতে পারে। প্রাকৃতিকভাবেও ঝড়, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কারণে এ ধরনের কম্পন সৃষ্টি হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক, কানাডার ম্যাকইউয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী রডনি শ্মাল্টজ জানান, পুরোনো ভবনে ঢুকে যে অস্বস্তি তৈরি হয়, তার বড় কারণ হতে পারে এই অদৃশ্য কম্পন। বিশেষ করে বেজমেন্ট বা নিচতলার জায়গাগুলোতে এটি বেশি থাকে। যদি কেউ আগে থেকেই জায়গাটিকে ‘ভূতুড়ে’ মনে করে, তাহলে সে এই অনুভূতিকে অতিপ্রাকৃত কিছু বলে ধরে নিতে পারে।

গবেষণায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে বসিয়ে শান্ত ও অশান্ত ধরনের সংগীত শোনানো হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের ক্ষেত্রে গোপনে ১৮ হার্টজ কম্পাঙ্কের ইনফ্রাসাউন্ড চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা তা বুঝতে পারেননি। পরে তাদের অনুভূতি জানতে জরিপ করা হয় এবং লালা পরীক্ষা করে কর্টিসল (চাপের সময় শরীরে তৈরি হওয়া হরমোন) পরিমাপ করা হয়।

যারা ইনফ্রাসাউন্ডের মধ্যে ছিলেন, তারা বেশি অস্বস্তি, বিরক্তি ও দুঃখ অনুভব করেছেন। তাদের শরীরে কর্টিসলের মাত্রাও বেড়েছে। অথচ তারা কেউ বুঝতে পারেননি যে তারা কোনো অতিরিক্ত কম্পনের মধ্যে ছিলেন।

গবেষকদের ধারণা, মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে এই ধরনের কম্পনের প্রতি সংবেদনশীল। যেমন কিছু প্রাণী ভূমিকম্পের আগে নিম্ন কম্পন টের পায়, তেমনি মানুষের শরীরও অদৃশ্য বিপদের সংকেত হিসেবে এটি গ্রহণ করতে পারে।

যদিও গবেষণাটি ছোট পরিসরে হয়েছে, তবুও এটি ভবিষ্যতে ভবন নকশা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভূত নয়, অদৃশ্য শব্দেই তৈরি হয় ভয়ের অনুভূতি : গবেষণা

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

পুরোনো বা পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকলেই অনেকের অকারণে অস্বস্তি বা ভয় লাগে। অনেকেই একে অতিপ্রাকৃত কিছু বলে মনে করেন। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, এর পেছনে থাকতে পারে মানুষের কানে শোনা যায় না এমন এক ধরনের নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দ, যা অজান্তেই মানুষের মনের ওপর প্রভাব ফেলে।

গবেষণাটি আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ইনফ্রাসাউন্ড’ নামে পরিচিত খুব কম কম্পাঙ্কের শব্দ (প্রায় ২০ হার্টজের নিচে) মানুষের কানে ধরা পড়ে না। কিন্তু এই কম্পন দেয়াল ভেদ করে সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের শরীরে চাপ তৈরি করে। পুরোনো পাইপলাইন, বায়ু চলাচলের যন্ত্র এবং শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি থেকে এমন কম্পন তৈরি হতে পারে। প্রাকৃতিকভাবেও ঝড়, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কারণে এ ধরনের কম্পন সৃষ্টি হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক, কানাডার ম্যাকইউয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী রডনি শ্মাল্টজ জানান, পুরোনো ভবনে ঢুকে যে অস্বস্তি তৈরি হয়, তার বড় কারণ হতে পারে এই অদৃশ্য কম্পন। বিশেষ করে বেজমেন্ট বা নিচতলার জায়গাগুলোতে এটি বেশি থাকে। যদি কেউ আগে থেকেই জায়গাটিকে ‘ভূতুড়ে’ মনে করে, তাহলে সে এই অনুভূতিকে অতিপ্রাকৃত কিছু বলে ধরে নিতে পারে।

গবেষণায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে বসিয়ে শান্ত ও অশান্ত ধরনের সংগীত শোনানো হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের ক্ষেত্রে গোপনে ১৮ হার্টজ কম্পাঙ্কের ইনফ্রাসাউন্ড চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা তা বুঝতে পারেননি। পরে তাদের অনুভূতি জানতে জরিপ করা হয় এবং লালা পরীক্ষা করে কর্টিসল (চাপের সময় শরীরে তৈরি হওয়া হরমোন) পরিমাপ করা হয়।

যারা ইনফ্রাসাউন্ডের মধ্যে ছিলেন, তারা বেশি অস্বস্তি, বিরক্তি ও দুঃখ অনুভব করেছেন। তাদের শরীরে কর্টিসলের মাত্রাও বেড়েছে। অথচ তারা কেউ বুঝতে পারেননি যে তারা কোনো অতিরিক্ত কম্পনের মধ্যে ছিলেন।

গবেষকদের ধারণা, মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে এই ধরনের কম্পনের প্রতি সংবেদনশীল। যেমন কিছু প্রাণী ভূমিকম্পের আগে নিম্ন কম্পন টের পায়, তেমনি মানুষের শরীরও অদৃশ্য বিপদের সংকেত হিসেবে এটি গ্রহণ করতে পারে।

যদিও গবেষণাটি ছোট পরিসরে হয়েছে, তবুও এটি ভবিষ্যতে ভবন নকশা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিডিসংবাদ/এএইচএস