ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই ৯/১১ হামলা ও ইসলামভীতি: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিতর্কিত কিছু তথ্য রাজধানীর বাজারে তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দা ও নিত্যপণ্যের দাম আইএমএফের ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে অক্সফামের উদ্বেগ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা

মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই

  • আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের একদল গবেষক মানুষের পয়ঃবর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে এমন এক ধরনের কংক্রিট উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় অধিক শক্তিশালী। মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রঘুভেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি জৈবকয়লা বা বায়োচার ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রক্রিয়ায় তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে সংগৃহীত পয়ঃবর্জ্য প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেটিকে অক্সিজেনহীন পরিবেশে ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে বায়োচারে রূপান্তর করা হয়। কার্বনসমৃদ্ধ এই সূক্ষ্ম পদার্থটি কংক্রিটের মিশ্রণে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। গবেষক দলে রঘুভেশ তিওয়ারির পাশাপাশি প্রিয়াংশা মেহরা, শাইক হুসেইন ও সঞ্চিত আনন্দ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

গবেষকরা প্রচলিত সিমেন্টের পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ বায়োচার মিশিয়ে কংক্রিটের বিভিন্ন নমুনা তৈরি করেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত কংক্রিটে ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা (compressive strength) প্রচলিত মিশ্রণের তুলনায় ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা (flexural strength) ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ৫ শতাংশ বায়োচার মিশ্রিত কংক্রিটেও ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা ২০ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৩৬ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।

তবে বায়োচারের ব্যবহার সব ক্ষেত্রে সমান ফল দেয়নি। ১৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধির হার আগের মাত্রার মতো ছিল না। এই মিশ্রণে ২৮ দিন পর পানি শোষণ ও ছিদ্রতার মাত্রা সাধারণ কংক্রিটের কাছাকাছি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণের ১২০ দিনের শুকানোর সময়ের সংকোচন সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মিশ্রণের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। গবেষকদের মতে, বায়োচারের ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো কংক্রিটের ভেতরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা এর শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

পরিবেশগত দিক থেকে এই উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রচুর জ্বালানি খরচ হয় এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। বায়োচারের ব্যবহার এই কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, মিশ্রণে বায়োচারের পরিমাণ বাড়লে পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা ভারী ধাতুর ঘনত্বও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি পরীক্ষাগারে সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। তবে বাস্তব নির্মাণকাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে এর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গবেষণায় ব্যবহৃত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গালের একটি পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার থেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োচার তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তা গুঁড়া করে ছেঁকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করা হয়, যাতে কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরীক্ষায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার পর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিমেন্টের ক্ষারীয় পরিবেশে বায়োচার এসব ক্ষতিকর পদার্থকে আটকে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে পরিবেশে সেগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের একদল গবেষক মানুষের পয়ঃবর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে এমন এক ধরনের কংক্রিট উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় অধিক শক্তিশালী। মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রঘুভেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি জৈবকয়লা বা বায়োচার ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রক্রিয়ায় তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে সংগৃহীত পয়ঃবর্জ্য প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেটিকে অক্সিজেনহীন পরিবেশে ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে বায়োচারে রূপান্তর করা হয়। কার্বনসমৃদ্ধ এই সূক্ষ্ম পদার্থটি কংক্রিটের মিশ্রণে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। গবেষক দলে রঘুভেশ তিওয়ারির পাশাপাশি প্রিয়াংশা মেহরা, শাইক হুসেইন ও সঞ্চিত আনন্দ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

গবেষকরা প্রচলিত সিমেন্টের পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ বায়োচার মিশিয়ে কংক্রিটের বিভিন্ন নমুনা তৈরি করেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত কংক্রিটে ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা (compressive strength) প্রচলিত মিশ্রণের তুলনায় ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা (flexural strength) ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ৫ শতাংশ বায়োচার মিশ্রিত কংক্রিটেও ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা ২০ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৩৬ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।

তবে বায়োচারের ব্যবহার সব ক্ষেত্রে সমান ফল দেয়নি। ১৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধির হার আগের মাত্রার মতো ছিল না। এই মিশ্রণে ২৮ দিন পর পানি শোষণ ও ছিদ্রতার মাত্রা সাধারণ কংক্রিটের কাছাকাছি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণের ১২০ দিনের শুকানোর সময়ের সংকোচন সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মিশ্রণের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। গবেষকদের মতে, বায়োচারের ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো কংক্রিটের ভেতরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা এর শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

পরিবেশগত দিক থেকে এই উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রচুর জ্বালানি খরচ হয় এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। বায়োচারের ব্যবহার এই কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, মিশ্রণে বায়োচারের পরিমাণ বাড়লে পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা ভারী ধাতুর ঘনত্বও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি পরীক্ষাগারে সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। তবে বাস্তব নির্মাণকাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে এর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গবেষণায় ব্যবহৃত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গালের একটি পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার থেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োচার তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তা গুঁড়া করে ছেঁকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করা হয়, যাতে কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরীক্ষায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার পর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিমেন্টের ক্ষারীয় পরিবেশে বায়োচার এসব ক্ষতিকর পদার্থকে আটকে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে পরিবেশে সেগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।