ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী ফেনীর ফাজিলপুরে ১৯ নভেম্বর বিনামূল্যে রোগী দেখবেন অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মুম্বাই পুলিশের নোটিশে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেলেন অভিনেতা ইমরান

সুপ্রিম কোর্টের একটি তালার পেটে কয়েকশ’ চাবি

  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 38
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী একটি তালা। এর ভেতরে সযত্নে সংরক্ষণ করা হয় কয়েকশ’ চাবি।

প্রযুক্তির এই যুগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্মার্ট লক, ডিজিটাল অ্যাক্সেস, বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ও কার্ডভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ব্যতিক্রমী এক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতীক- বিশাল আকৃতির একটি তালা। এটি আসলে সাধারণ কোনো তালা নয়, বরং তালার আদলে তৈরি একটি বিশেষ আলমারি। এর ভেতরেই সংরক্ষণ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকশ’ চাবি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের নিচতলায় সোনালী ব্যাংক-সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই ডান পাশে চোখে পড়ে এই বিশাল আকৃতির তালাটি। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও ৫ ফুট চওড়া এ তালা প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই ধাতব শিল্পকর্ম বা নান্দনিক স্থাপনার অংশ বলে মনে হতে পারে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ।

তালা-আকৃতির এই আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শত শত চাবি। প্রধান বিচারপতির দপ্তর, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এজলাস ও চেম্বার, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দপ্তর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসসহ আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবি এখানেই সংরক্ষণ করা হয়।

প্রতিদিন সকালেই শুরু হয় এই বিশাল তালার ব্যস্ততা। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চাবি বুঝে নেন। বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত নিয়মে আবার চাবিগুলো জমা দেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক কর্মচারী চাবিগুলো সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করেন।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, ‘বিশাল আকৃতির তালাটি মূলত চাবি সংরক্ষণের একটি আলমারি। প্রধান বিচারপতির দপ্তরসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দপ্তর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের তালা খোলার কয়েকশ’ চাবি এখানে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা সকালে এখান থেকে চাবি বুঝে নিয়ে বিকেল বা রাতে আবার জমা দিয়ে যান।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সুপ্রিম কোর্টের একটি তালার পেটে কয়েকশ’ চাবি

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী একটি তালা। এর ভেতরে সযত্নে সংরক্ষণ করা হয় কয়েকশ’ চাবি।

প্রযুক্তির এই যুগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্মার্ট লক, ডিজিটাল অ্যাক্সেস, বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ও কার্ডভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ব্যতিক্রমী এক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতীক- বিশাল আকৃতির একটি তালা। এটি আসলে সাধারণ কোনো তালা নয়, বরং তালার আদলে তৈরি একটি বিশেষ আলমারি। এর ভেতরেই সংরক্ষণ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকশ’ চাবি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের নিচতলায় সোনালী ব্যাংক-সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই ডান পাশে চোখে পড়ে এই বিশাল আকৃতির তালাটি। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও ৫ ফুট চওড়া এ তালা প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই ধাতব শিল্পকর্ম বা নান্দনিক স্থাপনার অংশ বলে মনে হতে পারে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ।

তালা-আকৃতির এই আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শত শত চাবি। প্রধান বিচারপতির দপ্তর, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এজলাস ও চেম্বার, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দপ্তর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসসহ আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবি এখানেই সংরক্ষণ করা হয়।

প্রতিদিন সকালেই শুরু হয় এই বিশাল তালার ব্যস্ততা। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চাবি বুঝে নেন। বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত নিয়মে আবার চাবিগুলো জমা দেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক কর্মচারী চাবিগুলো সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করেন।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, ‘বিশাল আকৃতির তালাটি মূলত চাবি সংরক্ষণের একটি আলমারি। প্রধান বিচারপতির দপ্তরসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দপ্তর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের তালা খোলার কয়েকশ’ চাবি এখানে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা সকালে এখান থেকে চাবি বুঝে নিয়ে বিকেল বা রাতে আবার জমা দিয়ে যান।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস