৩৫ উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। বৈঠকে বিদেশের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষ সুপারিশ জানানো হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান উড়োজাহাজ কেনার এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, বিশাল এই কেনাকাটার আগে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করা হয়েছে কি না। এর জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পুরো পরিকল্পনাটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৪০ সাল নাগাদ এই উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে। এছাড়া সহজ শর্তের ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এবং উড়োজাহাজগুলো পরিচালনার আয় থেকেই কেনাকাটার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বোয়িংয়ের সঙ্গে দুই ধাপে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে; যার প্রথমটি ৩০ এপ্রিল ১৪টি এবং দ্বিতীয়টি ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ১১টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের সম্পূরক চুক্তি হিসেবে সই হয়। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর এয়ারবাসের সঙ্গে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়কে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশনের গত আট মাসের কার্যক্রম এবং কেনাকাটার অগ্রগতি পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটা ও বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাবও উঠে আসে। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়েও কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





















