ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা নিহত

  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তর গাজায় সামরিক ঘাঁটির ভেতরে ড্রোন বিস্ফোরণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) দুই রিজার্ভ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহত দুই সেনা হলেন ২৪ বছর বয়সী মেজর (রিজার্ভ) নাদাভ কালি এবং ২৩ বছর বয়সী মেজর (রিজার্ভ) অফেক মোয়ালেম। তাদের মধ্যে নাদাভ কালি হার হালুতজ এবং অফেক মোয়ালেম জেরুজালেমের বাসিন্দা ছিলেন। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

আইডিএফের ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই আহত দুই সেনাকে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে জরুরিভিত্তিতে নেওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তজুরি নিহতদের ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। ঘটনার সময় সেখানে অন্য কোনো সেনা আহত হননি বলে জানানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন স্কোয়াড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহত দুই সেনা একটি ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের প্রথম অভিযান সফল হওয়ার পর দ্বিতীয়বার ড্রোনটি ওড়ানোর সময় সেটি ঘাঁটির অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হয়। এরপর ড্রোনটি পরীক্ষা করতে তারা সেটির কাছে গেলে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বর্তমানে ড্রোনটি কীভাবে বিস্ফোরিত হলো বা এর পেছনে হামাসের কোনো হাত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোনটি ইলেকট্রনিক তরঙ্গের মাধ্যমে নামিয়ে আনা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। একই সঙ্গে ড্রোনটির কাছে যাওয়ার পর ঠিক কী কারণে বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত হয়েছে, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে আইডিএফের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হামাসের থাকার সম্ভাবনা কম। ড্রোনটি আত্মঘাতী ছিল কি না অথবা এটি বিস্ফোরক বহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের ড্রোনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই ১৬তম ব্রিগেড উত্তর গাজায় তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শোক প্রকাশ করে বলেছেন, উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে দুটি পরিবার আজ গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের মানুষ যখন ছুটির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দুটি পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা নিহত

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর গাজায় সামরিক ঘাঁটির ভেতরে ড্রোন বিস্ফোরণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) দুই রিজার্ভ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহত দুই সেনা হলেন ২৪ বছর বয়সী মেজর (রিজার্ভ) নাদাভ কালি এবং ২৩ বছর বয়সী মেজর (রিজার্ভ) অফেক মোয়ালেম। তাদের মধ্যে নাদাভ কালি হার হালুতজ এবং অফেক মোয়ালেম জেরুজালেমের বাসিন্দা ছিলেন। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

আইডিএফের ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই আহত দুই সেনাকে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে জরুরিভিত্তিতে নেওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তজুরি নিহতদের ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। ঘটনার সময় সেখানে অন্য কোনো সেনা আহত হননি বলে জানানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন স্কোয়াড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহত দুই সেনা একটি ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের প্রথম অভিযান সফল হওয়ার পর দ্বিতীয়বার ড্রোনটি ওড়ানোর সময় সেটি ঘাঁটির অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হয়। এরপর ড্রোনটি পরীক্ষা করতে তারা সেটির কাছে গেলে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বর্তমানে ড্রোনটি কীভাবে বিস্ফোরিত হলো বা এর পেছনে হামাসের কোনো হাত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোনটি ইলেকট্রনিক তরঙ্গের মাধ্যমে নামিয়ে আনা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। একই সঙ্গে ড্রোনটির কাছে যাওয়ার পর ঠিক কী কারণে বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত হয়েছে, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে আইডিএফের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হামাসের থাকার সম্ভাবনা কম। ড্রোনটি আত্মঘাতী ছিল কি না অথবা এটি বিস্ফোরক বহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের ড্রোনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই ১৬তম ব্রিগেড উত্তর গাজায় তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শোক প্রকাশ করে বলেছেন, উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে দুটি পরিবার আজ গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের মানুষ যখন ছুটির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দুটি পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।