বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ: সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান, মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন সহমর্মিতা ও কার্যকর উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
বিডিসংবাদ প্রতিবেদকঃ
মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বজুড়ে দিবসটি উপলক্ষে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১০–১৯ বছর বয়সীদের প্রতি সাতজনে একজন কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভোগে। উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও পড়াশোনার চাপ তরুণদের মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, পড়াশোনার প্রতিযোগিতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা কোনো দুর্বলতা নয়। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সামাজিক কুসংস্কার, সচেতনতার অভাব এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সীমিত প্রাপ্যতা অনেককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ অক্টোবর ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবা ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অন্যদিকে, ১০ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মানসিক চাপের সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মী আচরণ, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের মূল বার্তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, সহমর্মিতা ও কার্যকর উদ্যোগ। মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়েই গড়ে তুলতে হবে আরও মানবিক ও সুস্থ সমাজ।


























