ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্রান্সে কারফিউয়ে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, নতুন বিক্ষোভের শঙ্কা শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্টোরে ধোঁয়া তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত সামুদ্রিক চুক্তিতে অনুমোদন লিবিয়ার পার্লামেন্টের মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পরিত্যক্ত শুটারগান ও কার্তুজ উদ্ধার কলকারখানায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ভাড়া বাসায় ডিজে পার্টি ও অসামাজিক রাজাপুরে ইজিবাইক উল্টে ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে উভয় সংকট ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি আলুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

ফ্রান্সে কারফিউয়ে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, নতুন বিক্ষোভের শঙ্কা

  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতের কারফিউ জারির পর পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারফিউর কারণে গত কয়েক রাতের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক শান্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সে এই সহিংসতাকে অন্যতম বড় অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সরকারের দাবি, নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনো কাটেনি। সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের জেরে জনমনে আস্থা ফেরাতে তৎপর ফরাসি প্রশাসন। দাঙ্গাকারী ও লুটপাটকারীরা প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর মতো বড় শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছে সরকার। এই দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রেখেছে এবং প্রয়োজনে এটি আরও বাড়ানো হতে পারে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহের বাকি সময়েও কারফিউ বাড়ানো হতে পারে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকায় পুলিশ ভারী টহল দিচ্ছে এবং আকাশপথে হেলিকপ্টার নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া উত্তর ফ্রান্সের লিলে শহরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ পথচারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করছে। মারসেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান ঘোষণা দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকর করা হবে।

দেশটিতে চলমান এই সংকটের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ বৃহত্তর এই জনঅসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আটক ১৪৯ জন বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মানুষ পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি আছেন। সোমবার সন্ধ্যায় আরেকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় আড়াই হাজার মানুষ তখনো হেফাজতে ছিলেন। ফ্রান্সে জীবনমানের অবনতি ও বিভিন্ন স্থাপনার বেহাল দশার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃহত্তর জনঅসন্তোষ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক কল্যাণের চাহিদা পূরণ না হওয়ার অভিযোগেও ক্ষোভ বাড়ছে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মাত্র ছয় মাস দূরে। জনমত জরিপে কট্টর বাম ও ডানপন্থী প্রার্থীদের এগিয়ে থাকা দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। এছাড়া সহিংসতার প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতেও; ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের বাড়তি মুনাফার চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সের ঋণপত্র কিনতে যে অতিরিক্ত মুনাফা দাবি করছেন, বন্ডের সুদ তারই একটি সূচক।

ইতালি ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাজেট বিল পাসের দিকে নজর দিতে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বৃহস্পতিবার সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্সে কারফিউয়ে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, নতুন বিক্ষোভের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতের কারফিউ জারির পর পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারফিউর কারণে গত কয়েক রাতের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক শান্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সে এই সহিংসতাকে অন্যতম বড় অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সরকারের দাবি, নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনো কাটেনি। সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের জেরে জনমনে আস্থা ফেরাতে তৎপর ফরাসি প্রশাসন। দাঙ্গাকারী ও লুটপাটকারীরা প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর মতো বড় শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছে সরকার। এই দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রেখেছে এবং প্রয়োজনে এটি আরও বাড়ানো হতে পারে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহের বাকি সময়েও কারফিউ বাড়ানো হতে পারে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকায় পুলিশ ভারী টহল দিচ্ছে এবং আকাশপথে হেলিকপ্টার নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া উত্তর ফ্রান্সের লিলে শহরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ পথচারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করছে। মারসেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান ঘোষণা দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকর করা হবে।

দেশটিতে চলমান এই সংকটের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ বৃহত্তর এই জনঅসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আটক ১৪৯ জন বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মানুষ পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি আছেন। সোমবার সন্ধ্যায় আরেকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় আড়াই হাজার মানুষ তখনো হেফাজতে ছিলেন। ফ্রান্সে জীবনমানের অবনতি ও বিভিন্ন স্থাপনার বেহাল দশার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃহত্তর জনঅসন্তোষ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক কল্যাণের চাহিদা পূরণ না হওয়ার অভিযোগেও ক্ষোভ বাড়ছে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মাত্র ছয় মাস দূরে। জনমত জরিপে কট্টর বাম ও ডানপন্থী প্রার্থীদের এগিয়ে থাকা দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। এছাড়া সহিংসতার প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতেও; ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের বাড়তি মুনাফার চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সের ঋণপত্র কিনতে যে অতিরিক্ত মুনাফা দাবি করছেন, বন্ডের সুদ তারই একটি সূচক।

ইতালি ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাজেট বিল পাসের দিকে নজর দিতে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বৃহস্পতিবার সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।