ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে উভয় সংকট

  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভবনের সামনের এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইনসের মালিকানাধীন এসব উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এগুলো অপসারণ করতে গিয়ে বড় ধরনের উভয় সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজগুলো সরানো সম্ভব হলে সেখানে নতুন করে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং বে তৈরি করা যাবে, যা বিমানবন্দরের কার্যক্রমে গতি আনবে এবং রাজস্ব আয় বাড়াবে।

উড়োজাহাজগুলো বিক্রির জন্য এরই মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান এরোপোরিয়া অ্যারোস্পেস তিন লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যার করসহ মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া সেনা কল্যাণ সংস্থা কর ছাড়া ৩ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং সেফ ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন লিমিটেড আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দর প্রস্তাব করেছে। গত ৭ অক্টোবর বেবিচকের ৩২০তম বোর্ড সভায় এগুলো নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া ও ভিত্তিমূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিষয়টি বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়নযোগ্যতার সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিধি অনুযায়ী এগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০২৪ সালের ২৬ মে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয় এবং ১ জুন এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে মালিকানাধীন ঋণের দায় নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ঋণের বিপরীতে দায়বদ্ধ উড়োজাহাজগুলোর বাজেয়াপ্তের আদেশ বাতিলের আবেদন জানিয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। বর্তমানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে এই অপসারণ কার্যক্রম থমকে আছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইনি মতামতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নিলাম সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত অর্থ যেন বেবিচকের একটি পৃথক হিসাবে জমা রাখা হয়।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিষয়টি। যথাযথ অনুমোদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে। তবে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো ঠিক কবে নাগাদ রানওয়ে বা পার্কিং এলাকা থেকে সরানো যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে উভয় সংকট

আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভবনের সামনের এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইনসের মালিকানাধীন এসব উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এগুলো অপসারণ করতে গিয়ে বড় ধরনের উভয় সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজগুলো সরানো সম্ভব হলে সেখানে নতুন করে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং বে তৈরি করা যাবে, যা বিমানবন্দরের কার্যক্রমে গতি আনবে এবং রাজস্ব আয় বাড়াবে।

উড়োজাহাজগুলো বিক্রির জন্য এরই মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান এরোপোরিয়া অ্যারোস্পেস তিন লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যার করসহ মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া সেনা কল্যাণ সংস্থা কর ছাড়া ৩ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং সেফ ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন লিমিটেড আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দর প্রস্তাব করেছে। গত ৭ অক্টোবর বেবিচকের ৩২০তম বোর্ড সভায় এগুলো নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া ও ভিত্তিমূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিষয়টি বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়নযোগ্যতার সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিধি অনুযায়ী এগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০২৪ সালের ২৬ মে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয় এবং ১ জুন এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে মালিকানাধীন ঋণের দায় নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ঋণের বিপরীতে দায়বদ্ধ উড়োজাহাজগুলোর বাজেয়াপ্তের আদেশ বাতিলের আবেদন জানিয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। বর্তমানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে এই অপসারণ কার্যক্রম থমকে আছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইনি মতামতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নিলাম সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত অর্থ যেন বেবিচকের একটি পৃথক হিসাবে জমা রাখা হয়।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিষয়টি। যথাযথ অনুমোদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে। তবে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো ঠিক কবে নাগাদ রানওয়ে বা পার্কিং এলাকা থেকে সরানো যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।