ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফার, ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 32
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের বড় ধরনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তারাও ইতিবাচক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, বেবিচক চেয়ারম্যানসহ একটি পরিদর্শন দল সম্প্রতি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিছু আনুষঙ্গিক কাজ ছাড়া প্রধান অবকাঠামো এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বেবিচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও প্রকল্প দুটির সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত, তবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। এই কাজের জন্য সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। বেবিচকের মতে, এই বর্ধিত রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বৃহৎ আকারের উড়োজাহাজ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে। ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালে ৪৫০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্রস্থান লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন কাউন্টার এবং ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ আধুনিক সব সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং দুটি ট্যাক্সিওয়ে ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল করছে।

তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোর আগ্রহ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার আগে সম্ভাব্য এয়ারলাইন্সগুলোর চাহিদা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। তার দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি বিমান সংস্থা কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেনি, তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এ ব্যাপারে সম্ভাব্য আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

পর্যটন শিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন সেবার মানোন্নয়ন, ব্যাপক প্রচার ও বিপণন নিশ্চিত করা জরুরি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ এয়ার হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেবিচক এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের পরামর্শক ও নকশা প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সম্ভাব্যভাবে ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, শুধু বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই আন্তর্জাতিক যাত্রী পাওয়া যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আপডেট সময় : ০৬:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের বড় ধরনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তারাও ইতিবাচক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, বেবিচক চেয়ারম্যানসহ একটি পরিদর্শন দল সম্প্রতি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিছু আনুষঙ্গিক কাজ ছাড়া প্রধান অবকাঠামো এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বেবিচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও প্রকল্প দুটির সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত, তবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। এই কাজের জন্য সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। বেবিচকের মতে, এই বর্ধিত রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বৃহৎ আকারের উড়োজাহাজ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে। ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালে ৪৫০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্রস্থান লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন কাউন্টার এবং ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ আধুনিক সব সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং দুটি ট্যাক্সিওয়ে ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল করছে।

তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোর আগ্রহ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার আগে সম্ভাব্য এয়ারলাইন্সগুলোর চাহিদা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। তার দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি বিমান সংস্থা কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেনি, তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এ ব্যাপারে সম্ভাব্য আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

পর্যটন শিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন সেবার মানোন্নয়ন, ব্যাপক প্রচার ও বিপণন নিশ্চিত করা জরুরি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ এয়ার হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেবিচক এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের পরামর্শক ও নকশা প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সম্ভাব্যভাবে ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, শুধু বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই আন্তর্জাতিক যাত্রী পাওয়া যাবে না।