নানা কর্মসূচিতে দেশব্যাপী উদযাপিত
আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস
- আপডেট সময় : ০১:৩১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 86
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
আজ ১২ মে, আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। আধুনিক নার্সিং পেশার রূপকার ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
এ বছর আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে – ‘আমাদের নার্স। আমাদের ভবিষ্যৎ-জীবন রক্ষায় প্রয়োজন, নার্সদের ক্ষমতায়ন’।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে:
সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এসএনএসআর)-এর উদ্যোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বা র্যালি বের করা হয়। এছাড়া কেক কাটা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)-এর সভাপতি জাহানারা পারভীন।
১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। এক ধনী ভূস্বামী পরিবারের সন্তান হয়েও মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি মানবসেবাকে ‘ঈশ্বরের ডাক’ হিসেবে গ্রহণ করেন। তৎকালীন সমাজে নার্সিং পেশা অবহেলিত হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি নিজেকে নার্সিংয়ের জ্ঞানে ও সেবায় দক্ষ করে তোলেন।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধে যখন ব্রিটিশ সৈন্যদের অবস্থা বিপন্ন, তখন দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজ উদ্যোগে ৩৮ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী নার্স দল নিয়ে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে যান। অসুস্থ ও আহত সৈন্যদের সেবায় তার সেই অনন্য আত্মত্যাগ তাকে ‘ইউরোপের অন্ধকারে আলোকবর্তিকা’ বা ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ উপাধিতে ভূষিত করে। তার হাত ধরেই আধুনিক নার্সিং সেবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
বিশ্বব্যাপী নার্সিং পেশার সম্মানার্থে ১৯৬৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)-এর উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে। অতীতে কেবল ঢাকায় স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপিত হলেও, বর্তমানে সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ইনস্টিটিউটে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে দিনটি পালন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে এবং যেকোনো বৈশ্বিক মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবসেবায় আত্মনিয়োজিত নার্সদের অবদানকে আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বিশ্ববাসী।

























