ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় সম্পদ নুরের বক্তৃতায় মগবাজার-বাংলামোটর তোলপাড়: মন্তব্য রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে জরিমানা গুনলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলা: নিহত ৫ গাজীপুরে ইয়াবাসহ আটক অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস লালমোহনে নজরুল বর্ষ উদযাপন

ইরানের বিরুদ্ধে জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ আরব আমিরাতের

  • আপডেট সময় : ০২:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 30
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

উপসাগরীয় জলসীমায় জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে পরে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ইউএইর দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর একটি দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়ে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘পর্যালোচনার পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ইরান থেকে আসা ওই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো সাগরে গিয়ে পড়ে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইউএইর এই অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে নাকচ’ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির একটি শান্তিচুক্তি হয়। উপসাগর থেকে ইউএইর বন্দরগুলোর দিকে যাওয়া ও আসা জাহাজগুলোর জন্য এই প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ইউএই মঙ্গলবার রাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে।

এর আগে ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে একটি সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে এবং বাসিন্দাদের দ্রুত কাছের নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। কিছুক্ষণ পরই সতর্কবার্তাটি প্রত্যাহার করা হয়।

জুনে একটি ভুল সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে ইউএইর ভূখণ্ডে প্রবেশ না করা একটি হামলার ঘটনায় সতর্কবার্তা জারির পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম সতর্কতা। এর আগে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি হয়েছিল মে মাসের শুরুতে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসির তেলবাহী জাহাজগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের হামলার সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে ইউএইকে। এ সময় দেশটির দিকে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়, যা ওই অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

দুই পক্ষের মধ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর—যদিও সেটি পরে ভেঙে যায়—ইউএইতে আর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইরানের বিরুদ্ধে জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ আরব আমিরাতের

আপডেট সময় : ০২:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

উপসাগরীয় জলসীমায় জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে পরে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ইউএইর দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর একটি দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়ে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘পর্যালোচনার পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ইরান থেকে আসা ওই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো সাগরে গিয়ে পড়ে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইউএইর এই অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে নাকচ’ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির একটি শান্তিচুক্তি হয়। উপসাগর থেকে ইউএইর বন্দরগুলোর দিকে যাওয়া ও আসা জাহাজগুলোর জন্য এই প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ইউএই মঙ্গলবার রাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে।

এর আগে ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে একটি সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে এবং বাসিন্দাদের দ্রুত কাছের নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। কিছুক্ষণ পরই সতর্কবার্তাটি প্রত্যাহার করা হয়।

জুনে একটি ভুল সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে ইউএইর ভূখণ্ডে প্রবেশ না করা একটি হামলার ঘটনায় সতর্কবার্তা জারির পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম সতর্কতা। এর আগে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি হয়েছিল মে মাসের শুরুতে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসির তেলবাহী জাহাজগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের হামলার সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে ইউএইকে। এ সময় দেশটির দিকে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়, যা ওই অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

দুই পক্ষের মধ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর—যদিও সেটি পরে ভেঙে যায়—ইউএইতে আর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস