ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির দণ্ড কার্যকর নিয়ে স্পষ্টীকরণ চাইল ঢাকা অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে জয়ের রথ থামল ম্যানচেস্টার সিটির ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচ ও খুচরা মূল্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, দিশেহারা খামারিরা শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে দুবাই বিমানবন্দরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ রংপুরে ‘শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন পরিষদ’ সমন্বয়ক আবু হানিফ গ্রেপ্তার মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের শীর্ষে এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দেওয়া নিয়ে তোপের মুখে পীরগঞ্জের ইউএনও

ইরানে ঢুকে পড়ল ইসরায়েল!

  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
  • / 270
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েল শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় ভোররাতে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন ও তেহরান ওমানে যে বৈঠক আয়োজন করছিল, ঠিক এর একদিন আগে এ হামলা চালানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। খবর সিএনএনের।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেকবারই ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক অস্থির হয়েছে। এর মধ্যেই তেহরানে এই হামলা দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্য করে হানা দিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (আইএএফ)। হামলাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য রাইজিং লায়ন’।

ইসরায়েলের এ হামলা যে সম্পূর্ণ আকস্মিক বা অপ্রত্যাশিত ছিল তা বলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনেক আগে থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, চলতি ২০২৫ সালেই যে কোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল, বিশেষ করে যেসব স্থাপনা দেশটির পরমাণু প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত।

ইরানে ঢুকে পড়ল ইসরায়েল, এখন?
বিশ্বজুড়ে দূতাবাস বন্ধ করছে ইসরায়েল
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরানে পরমাণু বোমা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সে আশঙ্কাই তাকে বিশ্বাস করিয়েছে, সামরিক অভিযান ছাড়া এই হুমকিতে রাশ টানা অসম্ভব।

গত বছর অক্টোবর মাসে ইরানে মদতপুষ্ট আল-কুদ্‌স ও রেভলুশনারি গার্ড অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থায় তা ঘায়েল হয়নি। এরপরই ইরানে পরমাণু প্রকল্প ঘিরে রাখা বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যদিও তা অস্বীকার করে এসেছে তেহরান।

সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে যে, অক্টোবরের সেই হামলার সাফল্যকে পুঁজি করেই আবারও হামলা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। এর সংক্ষিপ্ত মেয়াদে লক্ষ্য হলো ইরানে পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস করা, অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হলো ইরানে ক্ষমতাসীন কট্টর ইসলামপন্থি সরকারের পতন ঘটানো।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইরানকে নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যে সরকার এসেছে, তা প্রকাশ্যে বলেছে যে, বিশ্বের মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলাই তাদের লক্ষ্য।

এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই ইরান হুতিদের (ইয়েমেন), হামাসকে (গাজা উপত্যকা) ও হিজবুল্লাহকে (লেবানন) অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো অনেক দিন ধরেই ইসরায়েলকে আক্রমণ ও অস্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে গত ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা ও তারপর গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরু হলে হুতি ও হিজবল্লাহও আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

গাজায় অভিযান চলার সাথে সাথে ইয়েমেন ও লেবাননেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।

এ মুহূর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন। গাজায় অভিযান দেড় বছর পেরোলেও জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারায় ঘরোয়া অসন্তোষ বাড়ছে।

কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে বিশ্বাস, অনাস্থা ও আগাম নির্বাচনের বিল পর্যন্ত উত্থাপিত হয়, যা অল্প ব্যবধানে পাস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আপন ঘর সামলানো ও বাইরে হুমকির মোকাবিলা- উভয় চাপই নেতানিয়াহুকে হামলা শুরু করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি আবারও সুসংহত করতে চাইছেন, অপরদিকে ইরানে পরমাণু হুমকিতে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মহলে দৃঢ়তা প্রকাশ করতে চাইছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইরানে ঢুকে পড়ল ইসরায়েল!

আপডেট সময় : ০৭:৩২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

ইসরায়েল শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় ভোররাতে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন ও তেহরান ওমানে যে বৈঠক আয়োজন করছিল, ঠিক এর একদিন আগে এ হামলা চালানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। খবর সিএনএনের।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেকবারই ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক অস্থির হয়েছে। এর মধ্যেই তেহরানে এই হামলা দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্য করে হানা দিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (আইএএফ)। হামলাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য রাইজিং লায়ন’।

ইসরায়েলের এ হামলা যে সম্পূর্ণ আকস্মিক বা অপ্রত্যাশিত ছিল তা বলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনেক আগে থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, চলতি ২০২৫ সালেই যে কোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল, বিশেষ করে যেসব স্থাপনা দেশটির পরমাণু প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত।

ইরানে ঢুকে পড়ল ইসরায়েল, এখন?
বিশ্বজুড়ে দূতাবাস বন্ধ করছে ইসরায়েল
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরানে পরমাণু বোমা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সে আশঙ্কাই তাকে বিশ্বাস করিয়েছে, সামরিক অভিযান ছাড়া এই হুমকিতে রাশ টানা অসম্ভব।

গত বছর অক্টোবর মাসে ইরানে মদতপুষ্ট আল-কুদ্‌স ও রেভলুশনারি গার্ড অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থায় তা ঘায়েল হয়নি। এরপরই ইরানে পরমাণু প্রকল্প ঘিরে রাখা বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যদিও তা অস্বীকার করে এসেছে তেহরান।

সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে যে, অক্টোবরের সেই হামলার সাফল্যকে পুঁজি করেই আবারও হামলা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। এর সংক্ষিপ্ত মেয়াদে লক্ষ্য হলো ইরানে পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস করা, অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হলো ইরানে ক্ষমতাসীন কট্টর ইসলামপন্থি সরকারের পতন ঘটানো।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইরানকে নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যে সরকার এসেছে, তা প্রকাশ্যে বলেছে যে, বিশ্বের মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলাই তাদের লক্ষ্য।

এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই ইরান হুতিদের (ইয়েমেন), হামাসকে (গাজা উপত্যকা) ও হিজবুল্লাহকে (লেবানন) অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো অনেক দিন ধরেই ইসরায়েলকে আক্রমণ ও অস্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে গত ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা ও তারপর গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরু হলে হুতি ও হিজবল্লাহও আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

গাজায় অভিযান চলার সাথে সাথে ইয়েমেন ও লেবাননেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।

এ মুহূর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন। গাজায় অভিযান দেড় বছর পেরোলেও জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারায় ঘরোয়া অসন্তোষ বাড়ছে।

কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে বিশ্বাস, অনাস্থা ও আগাম নির্বাচনের বিল পর্যন্ত উত্থাপিত হয়, যা অল্প ব্যবধানে পাস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আপন ঘর সামলানো ও বাইরে হুমকির মোকাবিলা- উভয় চাপই নেতানিয়াহুকে হামলা শুরু করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি আবারও সুসংহত করতে চাইছেন, অপরদিকে ইরানে পরমাণু হুমকিতে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মহলে দৃঢ়তা প্রকাশ করতে চাইছেন।