ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দুই দশকের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতি টানল ইরাক

  • আপডেট সময় : ০১:১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর চূড়ান্তভাবে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া কার্যকর করল, যদিও এর আগের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়েই এই বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হলেও ইরানের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করল।

দুই দশকের এই দীর্ঘ সময়ে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের প্রাণহানির শিকার হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরাক যুদ্ধ ও এর সংশ্লিষ্ট অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে ইরাকে সাতজনসহ মোট ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে একজন সার্জেন্ট নিহত হন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমেই ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। এরপর নিরাপত্তা সংকটের কারণে ২০১১ সালের শেষভাগে প্রথম দফায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থানের ফলে ২০১৪ সালে তাদের আবারও ইরাকে ফিরতে হয়। সেই সময় ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল।

সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে ইরান সরকার ও তাদের মিত্ররা একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ইরাকে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আইএস আবারও পুনর্গঠিত হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ইরাকি সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রত্যাহার জনপ্রিয়, তবুও মার্কিন প্রশিক্ষিত ও সহায়তা প্রাপ্ত ইরাকি বাহিনী নিজেরাই দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েই গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই দশকের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতি টানল ইরাক

আপডেট সময় : ০১:১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর চূড়ান্তভাবে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া কার্যকর করল, যদিও এর আগের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়েই এই বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হলেও ইরানের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করল।

দুই দশকের এই দীর্ঘ সময়ে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের প্রাণহানির শিকার হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরাক যুদ্ধ ও এর সংশ্লিষ্ট অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে ইরাকে সাতজনসহ মোট ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে একজন সার্জেন্ট নিহত হন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমেই ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। এরপর নিরাপত্তা সংকটের কারণে ২০১১ সালের শেষভাগে প্রথম দফায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থানের ফলে ২০১৪ সালে তাদের আবারও ইরাকে ফিরতে হয়। সেই সময় ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল।

সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে ইরান সরকার ও তাদের মিত্ররা একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ইরাকে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আইএস আবারও পুনর্গঠিত হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ইরাকি সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রত্যাহার জনপ্রিয়, তবুও মার্কিন প্রশিক্ষিত ও সহায়তা প্রাপ্ত ইরাকি বাহিনী নিজেরাই দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েই গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।