ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী

পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় স্টেশন মাষ্টার রমানন্দকে হত্যা করি: খুনী ফোরকানের শিকারোক্তি

  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 350
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

পেনশনের পাঁচ লাখ টাকা ধার দেওয়ার সাথে নিজের জীবনটাও দিতে হল অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার রমানন্দ পালিত (৬৫ কে। ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে গলা কেটে নির্মমভাবে খুন করে লাশ নিজের দোকানের পেছনে মাটি চাপা দেয় ঘাতক ফোরকান। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাজিরহাটে এ ঘটনা ঘটে। দুই বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)’র হাতে ধরা পড়ে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে ঘাতক ফোরকান।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের খুলশিতে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আবদুর রহিম। এসময় মহানগর পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈনুদ্দিনসহ পিবিআই কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় রেলওয়ের অবসর প্রাপ্ত স্টেশন মাষ্টার রমানন্দ পালিত’র ঘরের সামনে ভাই ভাই ইলেকট্রিক এন্ড হার্ডওয়ার দোকান করত ফোরকান। দুজনের মধ্যে সুসম্পর্ক হওয়ার এক পর্যায়ে ধূর্ত ফোরকান নানা কৌশলে রমানন্দের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ টাকা ব্যবসার জন্য ধার নেন। ৬ মাস পর ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে আসল রূপ ধরা পড়ে ফোরকানের।

টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে রমানন্দকে নিজের দোকানে ডেকে নিয়ে যায় ফোরকান। নিজের জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু ফেরত পেতে ফোরকানের দোকানে যায় রমানন্দ। এর পর ফোরকান তার দোকানের কর্মচারী রুবেলকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ধারালো দা দিয়ে রমানন্দকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ দোকানের পিছনে মাটি চাপা দিয়ে পরিবারসহ সবাই আত্ম গোপনে চলে যায়।

এদিকে রমানন্দ হত্যার পর তাঁর মেয়ের জামাই বিপ্লব খাস্তগীর হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন। এক বছর পর মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর বলেন, নিজের নাম পরিচয় গোপন করে প্রথমে কক্সবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে এবং পরে একটি কলার দোকান দেয় ফোরকান।

দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সোমবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে ঘাতক ফোরকানকে আটক করে। আটকের পর রমানন্দকে নিজের দোকানে ডেকে নিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে ফোরকান ।

এদিকে দীর্ঘ ২ বছর পর নিজের স্বামীর ঘাতক আটক হওয়ার খবরে পিবিআই অফিসে ছুটে আসেন রমানন্দের স্ত্রী ডলি পালিত। তিনি স্বামীর হত্যাকারীর ফাঁসি দাবী করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় স্টেশন মাষ্টার রমানন্দকে হত্যা করি: খুনী ফোরকানের শিকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

পেনশনের পাঁচ লাখ টাকা ধার দেওয়ার সাথে নিজের জীবনটাও দিতে হল অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার রমানন্দ পালিত (৬৫ কে। ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে গলা কেটে নির্মমভাবে খুন করে লাশ নিজের দোকানের পেছনে মাটি চাপা দেয় ঘাতক ফোরকান। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাজিরহাটে এ ঘটনা ঘটে। দুই বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)’র হাতে ধরা পড়ে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে ঘাতক ফোরকান।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের খুলশিতে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আবদুর রহিম। এসময় মহানগর পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈনুদ্দিনসহ পিবিআই কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় রেলওয়ের অবসর প্রাপ্ত স্টেশন মাষ্টার রমানন্দ পালিত’র ঘরের সামনে ভাই ভাই ইলেকট্রিক এন্ড হার্ডওয়ার দোকান করত ফোরকান। দুজনের মধ্যে সুসম্পর্ক হওয়ার এক পর্যায়ে ধূর্ত ফোরকান নানা কৌশলে রমানন্দের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ টাকা ব্যবসার জন্য ধার নেন। ৬ মাস পর ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে আসল রূপ ধরা পড়ে ফোরকানের।

টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে রমানন্দকে নিজের দোকানে ডেকে নিয়ে যায় ফোরকান। নিজের জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু ফেরত পেতে ফোরকানের দোকানে যায় রমানন্দ। এর পর ফোরকান তার দোকানের কর্মচারী রুবেলকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ধারালো দা দিয়ে রমানন্দকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ দোকানের পিছনে মাটি চাপা দিয়ে পরিবারসহ সবাই আত্ম গোপনে চলে যায়।

এদিকে রমানন্দ হত্যার পর তাঁর মেয়ের জামাই বিপ্লব খাস্তগীর হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন। এক বছর পর মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর বলেন, নিজের নাম পরিচয় গোপন করে প্রথমে কক্সবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে এবং পরে একটি কলার দোকান দেয় ফোরকান।

দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সোমবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে ঘাতক ফোরকানকে আটক করে। আটকের পর রমানন্দকে নিজের দোকানে ডেকে নিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে ফোরকান ।

এদিকে দীর্ঘ ২ বছর পর নিজের স্বামীর ঘাতক আটক হওয়ার খবরে পিবিআই অফিসে ছুটে আসেন রমানন্দের স্ত্রী ডলি পালিত। তিনি স্বামীর হত্যাকারীর ফাঁসি দাবী করেন।