পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি বরদাশত নয়: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদ্ভব হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ বিকেলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভায় ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে থাকেন, এ দেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই; আমরা সবাই বাংলাদেশি। এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি অটুট রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ দেশের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে আসছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখবে। পূজা শুরুর আগ থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া ও প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি গভীর রাতে মণ্ডপগুলোতে পাহারা ও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, মন্দির ও মণ্ডপের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নিতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা জরুরি। নারী ও পুরুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আলাদা ব্যবস্থা রাখা এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিসর্জনের সময় মাদক সেবনসহ যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে সতর্ক থাকতে পূজা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। নারী ও পুরুষের চলাচল ব্যবস্থাপনায় পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং সৈয়দ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ এর সংসদ সদস্য অ্যাড. নিপুন রায় চৌধুর।






















