প্রকৃত সফলতার পথে মুমিনের জীবনযাপনের ৮টি মৌলিক গুণ
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো সাফল্য অর্জন করা। কেউ সম্পদে, কেউ সম্মান ও প্রতিষ্ঠায়, আবার কেউ ক্ষমতা ও পদমর্যাদাতে সাফল্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্থির করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে সাফল্য মানে শুধু জাগতিক অর্জন নয়, বরং এর অর্থ হলো দুনিয়া ও পরকালের চূড়ান্ত মুক্তি ও কল্যাণ লাভ করা। একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত সাফল্যের পথে যে আটটি গুণ থাকা অপরিহার্য, তার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো তাই একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত সাফল্য অর্জনে যেসব গুণগুলো থাকা জরুরি সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো, ১। কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায়, কখনো শয়তানের প্ররোচনায়, আবার কখনো অসতর্কতার কারণে মানুষ পাপ করে বসে। একজন মুসলিম শুধু নিজে ভালো থাকবেন, অথচ তাঁর চারপাশের মানুষ অন্যায় ও পাপাচারে নিমজ্জিত থাকবে—এমন মানসিকতা ইসলামের শিক্ষা নয়।
- বিশুদ্ধ ঈমানপ্রকৃত সফলতার মূল ভিত্তি হলো ঈমান। এটি শুধু মুখে উচ্চারণের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তির চিন্তা, বিশ্বাস, চরিত্র ও দৈনন্দিন লেনদেনে ইতিবাচক পরিবর্তনের নামই প্রকৃত ঈমান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর সঙ্গে অবতীর্ণ আলোর অনুসরণ করেছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা: আরাফ, আয়াত: ১৫৭)
- শিরকমুক্ত জীবনযাপনজীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর একত্ববাদে অবিচল বিশ্বাস ও তাঁর আনুগত্য নিশ্চিত করা সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত। ইবাদত ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে আল্লাহকে অদ্বিতীয় হিসেবে মানাই তাওহিদের শিক্ষা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই সফলকাম।’ (সুরা: মুজাদালাহ, আয়াত: ২২)। এখানে আল্লাহর দল বলতে সেই মুমিনদের বোঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর বিধানকে জীবনের চেয়েও গুরুত্ব দেয়।
- জুলুম ও কৃপণতা পরিহারঈমানের পূর্ণতায় মানুষের অন্তরে ন্যায়বিচার ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়। মুমিন ব্যক্তি কখনো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেন না কিংবা অহংকার করেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, কিয়ামতের দিন জুলুম হবে বহু অন্ধকারের কারণ। আর কৃপণতা থেকেও বেঁচে থাকো। কেননা, কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ধ্বংস করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৭৮)
- পাপ ও অশ্লীলতা থেকে সুরক্ষাপ্রকৃত মুমিন তার চরিত্র ও আচরণে পবিত্রতা বজায় রাখেন। তিনি মিথ্যাচার, প্রতারণা ও যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। পবিত্র কুরআনে সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তারা নামাজে বিনয়ী, অনর্থক কাজ থেকে মুক্ত এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করেন। (সুরা: মুমিনুন, আয়াত: ১-৫)
- বিপদ-আপদে ধৈর্যপার্থিব জীবন নানা প্রতিকূলতায় ঘেরা। অসুস্থতা, অভাব বা প্রিয়জন হারানোর মতো কঠিন সময়ে মুমিনের বড় শক্তি হলো ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে দৃঢ়তা অবলম্বন করো, সদা প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ২০০)
- তাওবা ও ইস্তিগফারে অভ্যস্ত হওয়ামানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সফল মুমিন পাপের ওপর অটল থাকেন না। তিনি ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত আল্লাহর কাছে ফিরে আসেন। আল্লাহর প্রিয় হওয়ার উপায় হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো। কেননা, আমি প্রতিদিন তাঁর কাছে একশবার তাওবা করি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০২)
- সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকিরপ্রতিকূল পরিস্থিতি বা দুশ্চিন্তার সময় আল্লাহর স্মরণ অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং মনোবল বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোনো দলের মুখোমুখি হবে, তখন অবিচল থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা: আনফাল, আয়াত: ৪৫)
- সৎকাজে ঐক্য ও সহযোগিতাব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সমাজকল্যাণে ভূমিকা রাখা ও মানুষকে ন্যায়ের পথে আহ্বান করা মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪)
পরিশেষে, মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার জীবনে এই গুণগুলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর সঙ্গে অবতীর্ণ আলোর অনুসরণ করেছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা: আরাফ, আয়াত: ১৫৭) ২। তা তাদের পরস্পর রক্তপাত এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে হালাল মনে করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৭৮) ৪। তিনি জানেন, আল্লাহ সবকিছু দেখছেন এবং তাঁর প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে দৃঢ়তা অবলম্বন করো, সদা প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ২০০) ৬। আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত।’ (সুরা: তাহরিম, আয়াত: ৮) তাওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা। যিনি নিষ্পাপ নবী, যাঁর অতীত ও ভবিষ্যতের সব ভুল আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, তিনিও প্রতিদিন একশবার তাওবা করতেন। তাহলে আমাদের মতো পাপী মানুষের কত বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা প্রয়োজন।
- জুলুম ও কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকা প্রকৃত ঈমান মানুষের অন্তরে ন্যায়বিচার, উদারতা ও মানবিকতার গুণ সৃষ্টি করে। একজন মুমিন কখনো অন্যের অধিকার নষ্ট করতে পারেন না, কারো প্রতি জুলুম করতে পারেন না এবং নিজের সম্পদ ও সামর্থ্য নিয়ে অহংকারী হতে পারেন না। কারণ জুলুম ও কৃপণতা।

























