বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তিতে কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই: হুমায়ুন কবির
- আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি নিয়ে ওঠা নানা মহলের আলোচনার মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির পেছনে কোনো ধরনের গোপন এজেন্ডা নেই। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি কার্যকর আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিমান চলাচল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন এই সম্পূরক চুক্তি সই হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন এই চুক্তি সই হয়। এর আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনার ক্রয়াদেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল, যার মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান ছিল। এই সর্বশেষ ক্রয়াদেশের ফলে চলতি বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানের মোট বহরে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে বিদ্যমান পুরোনো বিমানের তুলনায় জ্বালানি খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৭৮৭-১০ মডেলের ড্রিমলাইনারগুলো বর্তমান বহরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘ পাল্লার রুটে বিশেষ সুবিধা দেবে এবং ৭৩৭-৮ বিমানগুলো একক-আইল বা সিঙ্গেল-আইল নেটওয়ার্কে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো একক-আইলভিত্তিক নেটওয়ার্কে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের রুট পরিচালনায় ব্যবহারের সুযোগ দেবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজগুলো যেসব পুরোনো বিমানের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর তুলনায় জ্বালানি সাশ্রয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হতে পারে। এগুলো অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বড় করা অপরিহার্য। নির্দিষ্ট প্রয়োজন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই ক্রয়াদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা এই চুক্তি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখছে। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগটি দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ মাত্র।


























