যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তি নিয়ে জাতিগত বৈষম্যের মামলা সুপ্রিম কোর্টে
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মন্টগোমারি কাউন্টিতে অবস্থিত চারটি বিশেষায়িত মধ্যম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একদল অভিভাবকের অভিযোগ, কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এশীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। সোমবার শীর্ষ আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে পড়ানো হয় এবং পড়াশোনার মানও বেশ কঠোর।
অভিভাবকদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন ফেয়ারনেস’। তাঁদের দাবি, এই ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। মামলাকারীদের যুক্তি অনুযায়ী, অনেক এশীয় শিক্ষার্থী এমন সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, যেখানে শিক্ষার মান তুলনামূলক উন্নত এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ার বৈষম্য তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন এক ভর্তি নীতিমালা চালু করে, যা ‘প্যানডেমিক প্ল্যান’ নামে পরিচিত।
এই পদ্ধতিতে প্রথমে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত সম্ভাবনা যাচাই করা হয় এবং এরপর যোগ্যদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বিশেষায়িত বা স্থানীয় স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। অভিভাবকদের আইনজীবীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি জাতিগত পরিচয়ের উল্লেখ না থাকলেও, এটি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে পরিচালিত হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্যকে আড়াল করার সুযোগ তৈরি করেছে।
এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক পলা জিনিস মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই রায়ে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ভর্তি হওয়া এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার আবেদনকারী এশীয় শিক্ষার্থীদের হারের চেয়ে কম নয়। এছাড়া লটারি পদ্ধতি চালুর পেছনে কোনো বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণও পাননি বিচারক। এখন সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি নতুন করে শুনবেন, যা কয়েক মাসের মধ্যে শুনানি এবং আগামী জুনের মধ্যে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। জুনের মধ্যে রায় দিতে পারেন বিচারকেরা। ভর্তিপ্রক্রিয়ার একটি অংশে শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলের সঙ্গে একই রকম পারিবারিক আয়ের শিক্ষার্থীদের ফল তুলনা করা হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলাটি নাকচ করার আহ্বান জানিয়ে আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, প্যানডেমিক প্ল্যান একটি সম্পূর্ণ জাতিগত পরিচয়-নিরপেক্ষ লটারি পদ্ধতি। এর ইতিহাস বা উদ্দেশ্য কোনোভাবেই সংবিধানের পরিপন্থি নয়। তারা মনে করেন, অভিযোগকারী অভিভাবকদের পক্ষে কোনো অসাংবিধানিক আচরণের প্রমাণ নেই।
এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সামনে মূল প্রশ্ন হলো, জাতিগত পরিচয়-নিরপেক্ষ কোনো নীতির কারণে কোনো গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে দাবি করলে, তাদের কি অন্যদের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে? আদালতের এই রায় মন্টগোমারি কাউন্টির শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করার অর্থ হলো, সর্বোচ্চ আদালত এখন খতিয়ে দেখবেন যে অভিভাবকদের কাছে বৈষম্যের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না। এর আগে নিম্ন আদালতের খারিজ করা রায় চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এখন উচ্চ আদালত এই বিতর্কিত ভর্তি প্রক্রিয়ার আইনগত ভিত্তি পরীক্ষা করবেন।

























