হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- আপডেট সময় : ১২:০৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ৫০০ পৃষ্ঠার এই রায়ের অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
এর আগে গত ৩০ জুন আদালত ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে আনীত আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে গুরুতর জখম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় তার ওপর বর্তায়। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগও প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পৃথকভাবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার আরেকটি অভিযোগে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। তবে তিনটি সাজার মেয়াদ একই সময়ে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
রায়ে আরও জানানো হয়েছে, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনীত ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। অষ্টম অভিযোগটিতে কুষ্টিয়া শহরে ৫ আগস্ট আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যা এবং সারাদেশে প্রায় এক হাজার চারশ মানুষ হত্যা ও ২৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা প্রমাণিত হয়নি।
অন্যদিকে, ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের সময় আয়োজিত কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিযোগে দায়ের করা অপর একটি মামলায় হাসানুল হক ইনু বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতোমধ্যেই আপিলের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়।

























