ভোটের মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপ, চায়ের কাপে তুঙ্গে বিক্রি
- আপডেট সময় : ০১:৪২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 76
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। আর এই নির্বাচনী উত্তাপের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটার ও সমর্থকদের ভিড়ে এখন সরগরম চায়ের স্টল। আড্ডায় আড্ডায় বাড়ছে তর্কের ঝাঁজ, আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চা ও বিস্কুটের বিক্রি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই চায়ের দোকানগুলো এখন রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান মঞ্চ। নির্বাচনী তর্কের ফাঁকে ফাঁকে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন সব বয়সের মানুষ। দোকানিরা জানাচ্ছেন, শীতের এই সময়ে চায়ের চাহিদা এমনিতেই বেশি থাকে, কিন্তু নির্বাচন আসায় সেই বিক্রি এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
কেরানীগঞ্জের এক চায়ের দোকানি বলেন, “আগে সারা দিনে বড়জোর ১৫০ কাপ চা বিক্রি হতো। এখন নির্বাচনের কারণে ভিড় এত বেশি যে ৩০০ থেকে ৪০০ কাপ বিক্রি করতেও কষ্ট হচ্ছে না।” শুধু চা নয়, এর সাথে বিক্রি বেড়েছে রুটি, কেক এবং বিস্কুটেরও। বাড়তি ক্রেতা সামলাতে অনেক দোকানি ইতোমধ্যে নতুন কাপ ও কেটলি কিনেছেন। আবার অনেক জায়গায় নির্বাচনী মৌসুমকে কেন্দ্র করে নতুন করে গড়ে উঠেছে মৌসুমি চায়ের দোকান।
চায়ের এই বাড়তি চাহিদার প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারেও। ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। খোলা ও প্যাকেটজাত চায়ের দাম মানভেদে কেজিতে ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে যে প্যাকেট ৩৬০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়।
বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বাংলাদেশে চায়ের বাজার এখন ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর ওপর নির্বাচনী আমেজ বাজারে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, “নির্বাচনের প্রভাবে এবার চায়ের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে। নিম্নমানের চায়ের দামও এখন চড়া, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।”
চায়ের পাশাপাশি চিনির বাজারেও লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। সব মিলিয়ে চায়ের কাপের ঝড় এখন কেবল তর্কেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং চাঙ্গা করে তুলেছে দেশের ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসা বাণিজ্যকেও।




















