ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদিতে হামলার ঘটনায় আটকে পড়া পাবনার ৫০ যাত্রী দেশে

  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 33
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার জেরে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ওমরাহ পালনে যাওয়া ৫০ জন যাত্রী। গত মঙ্গলবার তাদের দেশে ফেরার নির্ধারিত সময় থাকলেও, বিমানবন্দর হামলার পরপরই ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেখানে আটকা পড়েন তারা। দীর্ঘ দুই দিনের অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট এবং নানা শারীরিক ও আর্থিক কষ্টের পর গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কাতার হয়ে তারা নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।

ওমরাহ দলের মোয়াল্লেম মোহাম্মদ রায়হান জানান, নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ফেরার সুযোগ মিললেও, প্রতিটি টিকিটের জন্য আগের ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প পথে ফিরতে প্রত্যেক যাত্রীকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়ে যায়।

যাত্রীদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে ভুক্তভোগী সাগর সরদার বলেন, তিনি তার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের দেশে ফেরা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবার নিয়ে এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অধিকাংশ যাত্রীর আবাসন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের নতুন করে থাকা ও খাওয়ার সংস্থান করতে হয়েছে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ভ্রমণজনিত ক্লান্তি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে দলের বেশ কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, তাদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এই সময়টুকু ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওমরাহযাত্রীদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানিয়েছেন, আটকে পড়া যাত্রীদের পুরো বিষয়টি নিয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা সুস্থভাবে দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশপথে এই ধরনের বিশৃঙ্খলার ফলে যাত্রীরা কেবল আর্থিক ক্ষতিরই সম্মুখীন হচ্ছেন না, বরং আবাসন ও স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যারও শিকার হচ্ছেন, যা ঈশ্বরদীর এই ৫০ যাত্রীর অভিজ্ঞতায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদিতে হামলার ঘটনায় আটকে পড়া পাবনার ৫০ যাত্রী দেশে

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার জেরে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ওমরাহ পালনে যাওয়া ৫০ জন যাত্রী। গত মঙ্গলবার তাদের দেশে ফেরার নির্ধারিত সময় থাকলেও, বিমানবন্দর হামলার পরপরই ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেখানে আটকা পড়েন তারা। দীর্ঘ দুই দিনের অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট এবং নানা শারীরিক ও আর্থিক কষ্টের পর গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কাতার হয়ে তারা নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।

ওমরাহ দলের মোয়াল্লেম মোহাম্মদ রায়হান জানান, নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ফেরার সুযোগ মিললেও, প্রতিটি টিকিটের জন্য আগের ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প পথে ফিরতে প্রত্যেক যাত্রীকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়ে যায়।

যাত্রীদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে ভুক্তভোগী সাগর সরদার বলেন, তিনি তার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের দেশে ফেরা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবার নিয়ে এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অধিকাংশ যাত্রীর আবাসন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের নতুন করে থাকা ও খাওয়ার সংস্থান করতে হয়েছে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ভ্রমণজনিত ক্লান্তি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে দলের বেশ কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, তাদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এই সময়টুকু ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওমরাহযাত্রীদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানিয়েছেন, আটকে পড়া যাত্রীদের পুরো বিষয়টি নিয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা সুস্থভাবে দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশপথে এই ধরনের বিশৃঙ্খলার ফলে যাত্রীরা কেবল আর্থিক ক্ষতিরই সম্মুখীন হচ্ছেন না, বরং আবাসন ও স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যারও শিকার হচ্ছেন, যা ঈশ্বরদীর এই ৫০ যাত্রীর অভিজ্ঞতায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।