শ্রীলঙ্কায় ইস্টারে বোমা হামলার ৭ বছর পরও বিচারের আশায় ভুক্তভোগীরা
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / 30
People gather on a main road during a protest against the mob attacks against Muslims in few villages after Easter Sunday bomb attacks by Islamist militants in Colombo, Sri Lanka May 16, 2019. REUTERS/Dinuka Liyanawatte - RC13F97384B0
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে-তে বোমা হামলার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিচার পাননি ভুক্তভোগীরা।
২৭৯ জন নিহত হওয়ার ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মানুষজন এখনও গভীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। পরপর সরকার পরিবর্তন হলেও, বিচার না পাওয়ায় তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল সমন্বিত আত্মঘাতী হামলায় তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেল লক্ষ্যবস্তু হয়।
এতে ৪৫ জন বিদেশিসহ মোট ২৭৯ জন নিহত হন ও আহত হন আরও ৫০০ জন মানুষ।
এ ঘটনায় এখনও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
নেগোম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে ফেব্রুয়ারিতে সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও সহায়তা’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
তিনি এখনও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, স্থানীয় ইসলামপন্থীরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তারা নিজেদের ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছিল।
পরবর্তী তদন্তে হামলাকারীদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা, এমনকি সামরিক গোয়েন্দার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা ছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয় নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায়। যেখানে ১১৭ জন ক্যাথলিক নিহত হন। অনেকে আহত হন।
৬৭ বছর বয়সী মার্সি ফিলোমিনা টিসেরা বলেন, ‘আমাদের একমাত্র প্রার্থনা, এমন ঘটনা আর কখনও না ঘটুক।’
তিনি গির্জার প্রধান ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি পাশের দরজা দিয়ে বিস্ফোরক ভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ মনে হলো কিছু একটা আমার মাথায় আঘাত করল। আমি শুধু বলেছিলাম, ‘হে ঈশ্বর’! ওই মুহূর্তে এটুকুই মনে আছে।’
জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, তার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
এক হাত দিয়ে ভাঙা চোয়াল ধরে রাখেন।
এরপর স্বেচ্ছাসেবকেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নেগোম্বোর কাছে নিজের বাড়িতে এএফপিকে তিনি এ কথা বলেন।
-‘ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’-
৫২ বছর বয়সী বিপণন কর্মকর্তা দিনাল ফার্নান্দো হামলায় বেঁচে যান।
তিনি একটি আট মাস বয়সী শিশুর কবরের দিকে ইশারা করেন।
দিনাল ফার্নান্দো বলেন, ‘এই হামলার পর তিনটি সরকার এসেছে, কিন্তু সবাই এটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
তিনি আহতদের হাসপাতালে নিতে সহায়তা করেছিলেন। এখন তিনি বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
এই বিপণন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকারের কাছে তিনি আশাবাদী।
হামলার দুই দিন পর, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে ২০১৯ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি ওই নির্বাচনে জয়ী হন।
তবে ২০২২ সালের জুলাইয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।
রাজাপাকসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেলকে দুই মাস আগে গ্রেফতারের পর বিচার পাওয়ার আশা কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ক্যাথলিক চার্চ।
পুলিশ জানায়, স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লেকে ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রাখা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও ইস্টার সানডে হামলায় সহায়তা’ করার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
-‘কখনো হাল ছাড়ব না’-
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা ও তার শীর্ষ কর্মকর্তারা আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা করেছিলেন। তারা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হন।
নিহতদের স্বজনদের দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, ভারতীয় গোয়েন্দারা হামলার দুই সপ্তাহ আগে কলম্বোকে সতর্ক করেছিল।
জাতিসংঘ হামলার ‘সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট’ উদঘাটনে আন্তর্জাতিক সহায়তায় স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের প্রধান কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিত বলেন, এ হামলা রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হওয়া দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে প্রিয়জন হারানো মানুষদের কষ্ট আরও বাড়ছে।’
রঞ্জিত এএফপিকে বলেন, নতুন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু তদন্তের আশা তৈরি হয়েছে। তবে ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ থেকে বাধাও আসছে।
মঙ্গলবার বার্ষিকীতে তিনি নেগোম্বোতে বিচার দাবিতে প্রার্থনা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন।
এর আগে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনিস গির্জায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই গির্জায় ৫১ জন ক্যাথলিক হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
রঞ্জিত বলেন, ‘সাত বছর শেষে আমি কী বলব? আমরা এখনো আশা নিয়ে অপেক্ষা করছি।’
তিনি বলেন, কিন্তু কিছু না হলে, আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব এবং ন্যায্য সমাধানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব। সত্য ও বিচারের জন্য আমাদের সংগ্রাম কখনোই থামবে না।
বিডিসংবাদ/এএইচএস



















