ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর চীনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদলের রাবি সফর ডিএসইতে ১৭৫ কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫২টির মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: তথ্য উপদেষ্টা বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি খেলাধুলাকে পেশার স্বীকৃতি, চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ হাইতির রাজধানীর কাছে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৪০

মোদির ভিডিও অপসারণ: ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইল মেটা

  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 40
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে মেটা।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মেটার বৈশ্বিক প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে মেটার পক্ষ থেকে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট, ডিপফেক কনটেন্ট এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় বিভিন্ন ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে আইনি সুরক্ষা পাবে না মেটা
এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে মেটার প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।
সূত্রগুলোর দাবি, মেটা নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কোন ব্যবহারকারী কোন কনটেন্ট দেখবেন, তা নির্ধারণ করে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় মধ্যস্থতাকারীদের জন্য থাকা ‘সেফ হারবার’ বা আইনি সুরক্ষার সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি আরও জানিয়েছে, বৈঠকে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থ নেওয়া হয়েছিল।

সূত্রগুলোর দাবি, মেটা এ-ও স্বীকার করেছে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ কনটেন্ট প্রচারিত হয়েছে।
এ কারণে ভবিষ্যতে মেটার কর্মকর্তাদের আবারও তলব করা হবে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মোদির ভিডিও সরানোর ঘটনায় তলব
ভারতে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে মেটার সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে কয়েকশ কোটি নয়, কয়েকশ মিলিয়ন মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারতের সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের কাছে ক্ষমা দাবি করে।

গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের সময় প্রকাশিত ওই ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়।

মেটা ঘটনাটিকে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ বলে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইলেও ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সেই ব্যাখ্যাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করে। মেটার দাবি ছিল, ভুলবশত কনটেন্টটি সরানো হয়েছিল এবং পরে তা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়েও উদ্বেগ
বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি মেটাসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট এবং নারীদের অবমাননাকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কমিটি এসব কনটেন্ট বহনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কেবল সুপারিশ করতে পারে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

বুধবার সরকারের তলবে মেটার বৈশ্বিক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে।
প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান জোয়েল ক্যাপলানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্ট সরিয়ে ফেলার ঘটনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে সরকারের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। সূত্র: এনডিটিভি
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মোদির ভিডিও অপসারণ: ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইল মেটা

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে মেটা।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মেটার বৈশ্বিক প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে মেটার পক্ষ থেকে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট, ডিপফেক কনটেন্ট এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় বিভিন্ন ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে আইনি সুরক্ষা পাবে না মেটা
এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে মেটার প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।
সূত্রগুলোর দাবি, মেটা নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কোন ব্যবহারকারী কোন কনটেন্ট দেখবেন, তা নির্ধারণ করে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় মধ্যস্থতাকারীদের জন্য থাকা ‘সেফ হারবার’ বা আইনি সুরক্ষার সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি আরও জানিয়েছে, বৈঠকে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থ নেওয়া হয়েছিল।

সূত্রগুলোর দাবি, মেটা এ-ও স্বীকার করেছে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ কনটেন্ট প্রচারিত হয়েছে।
এ কারণে ভবিষ্যতে মেটার কর্মকর্তাদের আবারও তলব করা হবে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মোদির ভিডিও সরানোর ঘটনায় তলব
ভারতে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে মেটার সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে কয়েকশ কোটি নয়, কয়েকশ মিলিয়ন মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারতের সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের কাছে ক্ষমা দাবি করে।

গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের সময় প্রকাশিত ওই ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়।

মেটা ঘটনাটিকে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ বলে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইলেও ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সেই ব্যাখ্যাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করে। মেটার দাবি ছিল, ভুলবশত কনটেন্টটি সরানো হয়েছিল এবং পরে তা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়েও উদ্বেগ
বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি মেটাসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট এবং নারীদের অবমাননাকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কমিটি এসব কনটেন্ট বহনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কেবল সুপারিশ করতে পারে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

বুধবার সরকারের তলবে মেটার বৈশ্বিক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে।
প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান জোয়েল ক্যাপলানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্ট সরিয়ে ফেলার ঘটনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুযৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে সরকারের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। সূত্র: এনডিটিভি
বিডিসংবাদ/এএইচএস