ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন নার্গিস মোহাম্মদি

  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 30
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তার সমর্থকদের মতে তেহরানের নিজ বাসায় ফিরে গেছেন।

তেহরান থেকে এএফপি সোমবার তার পরিবার ও সমর্থকরদের বরাতে জানায়, জামিন পাওয়ার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মোহাম্মদি হৃদরোগে ভুগছেন এবং গত ডিসেম্বরের সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি ঘটে।

তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি রোববার জাঞ্জানে ১৮ দিনের চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বের হন এবং পরে তেহরানে স্থানান্তরিত হন।

হাসপাতালে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপজনিত সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র মানসিক চাপ, ক্রমাগত উদ্বেগ এবং কঠিন পরিবেশগত চাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো উচিত নয় এবং তার চিকিৎসা কঠোরভাবে হাসপাতাল বা কারাগারের বাইরে অব্যাহত রাখতে হবে।

তার মেয়ে কিয়ানা রহমানি বলেন, ‘তার সুস্থতার জন্য কারাগারের বাইরে কঠোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাকে আবার আটক করা মানে মৃত্যুদণ্ডের সমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে তিনি মুক্ত থাকবেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব ভিত্তিহীন অভিযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে এবং নির্যাতন বন্ধ হবে।’

কিয়ানা ও তার যমজ ভাই আলি বর্তমানে প্যারিসে থাকেন এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা তাদের মাকে দেখতে পারেননি।

মোহাম্মদিকে ১০ মে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরে চিকিৎসার জন্য তেহরানে স্থানান্তর করা হয়।

তার সমর্থকদের দাবি, কারাগারে থাকাকালে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে ছিলেন।

তার আইনজীবীদের মতে, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনো প্রায় ১৮ বছরের কারাদণ্ড বাকি রয়েছে।

সমর্থকদের দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ চলাকালে জাঞ্জানের কারাগারের কাছে অন্তত তিনবার বিমান হামলা হয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদি গত দুই দশকের বেশিরভাগ সময়ই মানবাধিকার আন্দোলনের কারণে কারাবন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন। ২০২২-২৩ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পক্ষে তিনি জোরালো সমর্থন দেন, তবে বৃহৎ আন্দোলন শুরুর আগেই তিনি গ্রেপ্তার হন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জানুয়ারির বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইরানে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন নার্গিস মোহাম্মদি

আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তার সমর্থকদের মতে তেহরানের নিজ বাসায় ফিরে গেছেন।

তেহরান থেকে এএফপি সোমবার তার পরিবার ও সমর্থকরদের বরাতে জানায়, জামিন পাওয়ার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মোহাম্মদি হৃদরোগে ভুগছেন এবং গত ডিসেম্বরের সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি ঘটে।

তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি রোববার জাঞ্জানে ১৮ দিনের চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বের হন এবং পরে তেহরানে স্থানান্তরিত হন।

হাসপাতালে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপজনিত সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র মানসিক চাপ, ক্রমাগত উদ্বেগ এবং কঠিন পরিবেশগত চাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো উচিত নয় এবং তার চিকিৎসা কঠোরভাবে হাসপাতাল বা কারাগারের বাইরে অব্যাহত রাখতে হবে।

তার মেয়ে কিয়ানা রহমানি বলেন, ‘তার সুস্থতার জন্য কারাগারের বাইরে কঠোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাকে আবার আটক করা মানে মৃত্যুদণ্ডের সমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে তিনি মুক্ত থাকবেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব ভিত্তিহীন অভিযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে এবং নির্যাতন বন্ধ হবে।’

কিয়ানা ও তার যমজ ভাই আলি বর্তমানে প্যারিসে থাকেন এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা তাদের মাকে দেখতে পারেননি।

মোহাম্মদিকে ১০ মে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরে চিকিৎসার জন্য তেহরানে স্থানান্তর করা হয়।

তার সমর্থকদের দাবি, কারাগারে থাকাকালে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে ছিলেন।

তার আইনজীবীদের মতে, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনো প্রায় ১৮ বছরের কারাদণ্ড বাকি রয়েছে।

সমর্থকদের দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ চলাকালে জাঞ্জানের কারাগারের কাছে অন্তত তিনবার বিমান হামলা হয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদি গত দুই দশকের বেশিরভাগ সময়ই মানবাধিকার আন্দোলনের কারণে কারাবন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন। ২০২২-২৩ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পক্ষে তিনি জোরালো সমর্থন দেন, তবে বৃহৎ আন্দোলন শুরুর আগেই তিনি গ্রেপ্তার হন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জানুয়ারির বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইরানে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস