গত দুই মৌসুমে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ায় বিপিএল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা বিসিবি’র
- আপডেট সময় : ০৯:২০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 1
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
গত দুই আসরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ায় এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট ঢেলে সাজিয়ে আগামী বছর নতুন কাঠামোয় আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বোর্ড।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, বিপিএল-এর জন্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বোর্ড। যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মনীতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ মিরপুরে সাংবাদিকদের তামিম বলেন, ‘আমরা এ বছর বিপিএল আয়োজন করছি না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০-৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে, তখন আমি আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি বা ক্যালেন্ডার কিভাবে সাজাচ্ছি সেটি ঘোষণা করব। এটি বেশ ভিন্ন এবং আকর্ষণীয় হবে।’
তামিম জানান, বোর্ড চাইলে দ্রুত পাঁচটি দল নিয়ে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারত। কিন্তু প্রতিযোগিতার মান এবং বিসিবি-র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে রাজি নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে আগামীকালই পাঁচটি দল গঠন করতে পারি, কিন্তু আমি তা করব না। আমার কাছে সুষ্ঠু ক্রিকেট এবং বিসিবি-র মর্যাদা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমি যেকোনো সমালোচনা মেনে নিতেও প্রস্তুত।’
তামিম জানান, তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্টটি ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে বর্তমান প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এটিকে যথাযথভাবে নতুন করে সাজাতে চায় বোর্ড।
তামিম বলেন, ‘আমরা পুরো টুর্নামেন্টকে সুন্দরভাবে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিয়মকানুন মেনে চলা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিসিবি সভাপতি।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যখন নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয় বা প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়, তখন বোর্ডকে বাধ্য হয়েই আর্থিক দায়ভার বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এভাবে আমরা বিপিএল চালাতে পারি না। কিছু ক্ষেত্রে নিয়মকানুন লঙ্ঘন করা হয়েছে। সমস্যা হলো, কোনো দল সরে দাঁড়ালে বা নিয়ম না মানলে সেই দলের দায়ভার বিসিবিকেই নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ হওয়া উচিত, লোকসান নয়।’
তামিম স্পষ্ট করে জানান, বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা বোর্ডের নেই। তিনি বলেন, ‘এটি আয়োজন করার ব্যাপারে আমাদের ১০০০ শতাংশ ইচ্ছা আছে। আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই। এতে যদি ছয় মাস বা ১২ মাসও সময় লাগে, আমি সেই সময়ও নেব।’
ইতিমধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে বিসিবি। পাশাপাশি যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে বোর্ড। এর ফলে শেষ মুহূর্তে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি সরে দাঁড়ালে বিকল্প খোঁজার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।
তামিম বলেন, ‘আমরা এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজি সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই। আগে সবকিছু একেবারে শেষ মুহূর্তে করা হতো। এবার আমরা হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিষয় চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বিকল্প খোঁজার সময় পাওয়া যায়। আগামী বছর সুশৃঙ্খলভাবে এটি আয়োজন করার চেষ্টা করব।’
এদিকে, এ বছর বিপিএল না হওয়ায় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে বিসিবি ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি সংশোধিত সূচি তৈরির কাজও করছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন কাঠামো চূড়ান্ত হবার পর বোর্ড বিকল্প ব্যবস্থার ঘোষণা দেবে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস




















