পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
দুই বছরেও মেলেনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত জাফরের শহীদী স্বীকৃতি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 43
মো: ওমর ফারুক, ফেনী প্রতিনিধিঃ
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো ‘জুলাই শহীদ’-এর সরকারি স্বীকৃতি পাননি ফেনীর টমটম চালক জাফর আহম্মদ। শহীদী স্বীকৃতি না পাওয়া এবং পরিবারের মানবেতর জীবনযাপনের কথা তুলে ধরে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তাঁর ক্ষুব্ধ পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শহীদ জাফর আহম্মদের স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং মেয়ে সোনিয়া আক্তার। তাঁরা জাফরের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি ও জুলাই শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরিবারের তথ্যমতে, শহীদ জাফর ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে মাঠে সরব ভূমিকা রেখে আসছিলেন, যার কারণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম তাঁর ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে জাফরের খোঁজে তাঁর বাড়িতে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে পরিবারকে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ৪ আগস্ট জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি আবারও ট্রাংক রোডে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গিয়ে অবস্থান নেন। পরদিন ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টমটমে যাত্রী নিয়ে আসার পথে ফেনী পৌরসভা ও জেল রোডের মাঝখানে জানে আলমের বাহিনী তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাঁকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে পথচারীদের সহযোগিতায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাফরকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জাফরের স্ত্রী আছিয়া বেগম বাদী হয়ে ফেনীর আদালতে ২০৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা (জি আর মামলা নং- ৩৮২/২৪) দায়ের করেন। এই মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিরা হলেন— ফেনী সদর আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, হাজী রহিম উল্যাহ এবং ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম।
সংবাদ সম্মেলনে জাফরের স্ত্রী আছিয়া বেগম হতাশা প্রকাশ করে জানান, দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই গত দুই বছরেও জাফর আহম্মদকে শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বর্তমানে তাঁরা চরম দারিদ্র্য ও অভিভাবকহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অবিলম্বে জাফর আহম্মদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়ে পরিবারের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও তাঁর স্বজনরা।























