ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছারপোকার উপদ্রব: কোয়ান্টাসের ফ্লাইট বাতিল ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে: জাতিসংঘ কুয়াকাটায় বৌদ্ধ বিহারের সভাপতির ওপর হামলা: দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ সিবিএস আপগ্রেড: সোনালী, স্ট্যান্ডার্ডসহ চার ব্যাংকের সেবা সাময়িক বন্ধ সৌদিতে ফ্লাইট বাতিল: অনিশ্চয়তায় ১৫ হাজার প্রবাসী যাত্রী সাঁথিয়ায় ১৩৪ বস্তা সার জব্দ, অসাধু ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড বাংলাদেশে চার খাতে সংস্কারে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: বিশ্বব্যাংক চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি জাতীয় পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শাবিপ্রবির ‘স্টিচ এআই’

নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় ভুল গ্রেপ্তারে ২০ দিন কারাভোগ নিরপরাধ জেলের

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 23
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর মহিপুরে মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তিকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ভুল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও প্রকৃত আসামির মায়ের নাম এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার বাদীকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে ২০২৩ সালে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তবে কারাবন্দি হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসে যে, তিনি মামলার প্রকৃত আসামি নন। প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে তার পরিবারের দাবি।

ভুক্তভোগীর জামাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। নাম ও বাবার নামের সাদৃশ্য থাকায় তাকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মায়ের নাম বা অন্যান্য পরিচয় যাচাই করলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না। পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, আমার মক্কেল মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি ও কারাভোগের হাত থেকে বাঁচাতে গ্রেপ্তারের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় যাচাই করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানান, আদালত থেকে পাঠানো পরোয়ানায় আসামির নাম ও বাবার নাম ছিল, যার সঙ্গে মিল থাকায় এসআই শহীদুল ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। তবে পরোয়ানায় মায়ের নাম, ছবি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় এই ভুল হয়েছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নামসহ পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তার জামিনের সুপারিশ করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরোয়ানায় উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে নির্দোষ হয়েও ২০ দিন কারাভোগের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় ভুল গ্রেপ্তারে ২০ দিন কারাভোগ নিরপরাধ জেলের

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর মহিপুরে মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তিকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ভুল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও প্রকৃত আসামির মায়ের নাম এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার বাদীকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে ২০২৩ সালে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তবে কারাবন্দি হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসে যে, তিনি মামলার প্রকৃত আসামি নন। প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে তার পরিবারের দাবি।

ভুক্তভোগীর জামাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। নাম ও বাবার নামের সাদৃশ্য থাকায় তাকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মায়ের নাম বা অন্যান্য পরিচয় যাচাই করলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না। পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, আমার মক্কেল মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি ও কারাভোগের হাত থেকে বাঁচাতে গ্রেপ্তারের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় যাচাই করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানান, আদালত থেকে পাঠানো পরোয়ানায় আসামির নাম ও বাবার নাম ছিল, যার সঙ্গে মিল থাকায় এসআই শহীদুল ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। তবে পরোয়ানায় মায়ের নাম, ছবি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় এই ভুল হয়েছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নামসহ পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তার জামিনের সুপারিশ করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরোয়ানায় উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে নির্দোষ হয়েও ২০ দিন কারাভোগের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।