ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের

  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 19
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জোটের শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।

নয়াদিল্লির এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। শনিবার দিনের শেষভাগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের যোগদানের কথা রয়েছে। আয়োজক দেশ ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে নেতারা একমত হয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী।

যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নীতিমালা লঙ্ঘন করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানুষ ও পরিবেশকে সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরিহার্য বলে জোটটি মত প্রকাশ করেছে।

বৈশ্বিক মেরুকরণ ও অবিশ্বাসের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ব্রিকস। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং জ্বালানির নির্বিঘ্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস জোট গঠিত হয়েছিল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নয়াদিল্লির এই সম্মেলন জোটটির ঐক্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জোটের শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।

নয়াদিল্লির এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। শনিবার দিনের শেষভাগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের যোগদানের কথা রয়েছে। আয়োজক দেশ ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে নেতারা একমত হয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী।

যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নীতিমালা লঙ্ঘন করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানুষ ও পরিবেশকে সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরিহার্য বলে জোটটি মত প্রকাশ করেছে।

বৈশ্বিক মেরুকরণ ও অবিশ্বাসের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ব্রিকস। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং জ্বালানির নির্বিঘ্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস জোট গঠিত হয়েছিল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নয়াদিল্লির এই সম্মেলন জোটটির ঐক্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।