অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ ও লুটপাটে জড়িত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
- আপডেট সময় : ১০:০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 29
দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। স্পিকার বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। প্রশাসনে এখনো আওয়ামী লীগ আমলের অনেক লোক ঘাপটি মেরে বসে আছে, যে কারণে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে সঠিকভাবে উঠে আসছে না।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটপাটের ব্যাপক নজির রয়েছে বলে দাবি করেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ওই সময়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দুর্নীতি দেশের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শুধু লন্ডনেই তার ৩৬০টি বাড়ি পাওয়া গেছে। দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য তারা এ দেশকে কার্যত অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্পিকার অভিযোগ করেন যে, আগের সরকার দেশের মানুষের চেয়ে প্রতিবেশীর স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ এলে বাংলাদেশের নিজস্ব জাহাজসহ অন্যান্য জাহাজ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এছাড়া, তারা বিনা শুল্কে বা নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহন করেছে, যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না, বরং আমাদেরকে একটি করদ রাজ্য হিসেবে রাখার চেষ্টা চলছে।
সীমান্তে নিয়মিত মানুষ হত্যার ঘটনা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অন্য দেশের সঙ্গেও তাদের সীমান্ত আছে, কিন্তু সেখানে এমন পরিস্থিতি নেই। বাংলাদেশের সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ মানুষ আহত বা নিহত হচ্ছে। এ অবস্থার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাই দায়ী বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিকে অদ্ভুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে গিয়ে তারা দেশকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মতে, এসব কর্মকর্তার ঘুষ-লুটপাটের ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যা কিছু বিদেশি সাহায্য এসেছে, সবকিছু তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন সবাই কারাগারে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’ ‘যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না,’ যোগ করেন তিনি।

























