ছারপোকার উপদ্রব: কোয়ান্টাসের ফ্লাইট বাতিল
- আপডেট সময় : ১১:১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ সম্প্রতি তাদের একটি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। গত শনিবার ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী ওই ফ্লাইটটি রোম থেকে পার্থের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে উড়োজাহাজের ভেতরে ছারপোকার উপদ্রব শনাক্ত হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির স্বার্থে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৯ অক্টোবর। পার্থ থেকে রোমগামী কিউএফ৫ ফ্লাইটের ইকোনমি শ্রেণিতে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ছারপোকার উপস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেন। হেইলি ব্যাগনল নামের একজন যাত্রী নাইন নিউজকে জানান, ছারপোকাগুলো উড়োজাহাজের ভেতরে অবাধে বিচরণ করছিল। এগুলো যাত্রীদের ব্যক্তিগত পোশাক, ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা কম্বল এবং এমনকি জানালার পার্শ্ববর্তী স্থানেও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের একটি ফ্লাইটে যাত্রীরা ছারপোকার কামড়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানান।
কোয়ান্টাস কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সিএনএনকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। উড়োজাহাজের ইকোনমি শ্রেণির বেশ কিছু আসনে ছারপোকার উপস্থিতি পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। বিমানটির প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ দলকে কেবিনটি পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতেই শনিবারের রোম-পার্থ ফ্লাইটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে সংস্থাটি।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের সাময়িকভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। কোয়ান্টাস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের উড়োজাহাজের কেবিন নিয়মিতভাবে কঠোর মান বজায় রেখে পরিষ্কার করা হয়। তবুও এই বিশেষ পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। এতে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে উড়োজাহাজটির পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্যানুযায়ী, ছারপোকা সাধারণত ছোট ও চ্যাপ্টা আকৃতির রক্তচোষা পোকা, যা মানুষের ঘুমানোর সময় কামড় দেয়। এর কামড়ে ত্বকে লালচে দাগ ও অস্বস্তিকর চুলকানি হতে পারে। এছাড়া এগুলো খুব দ্রুত লাগেজ, পোশাক কিংবা বিছানাপত্র ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরণের উপদ্রব দেখা দিলে দ্রুত পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বা পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাধারণত মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে এগুলো কামড়ায় এবং রক্ত পান করে। কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির কারণে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। ছারপোকা শুধু বিছানায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছারপোকা দূর করতে আক্রান্ত স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হয়।
























