ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

তিন মাসে সরকার ব্যাংক থেকে নিলো ২৪ হাজার কোটি

  • আপডেট সময় : ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ঋণ পরিশোধ করেছিল। বর্তমান অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের এ ঋণ নেওয়ার পরিমাণ চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিট ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন; তখন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিট ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। অর্থাৎ সেসময় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নতুন ঋণের চেয়ে পরিশোধই বেশি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাস শেষে সরকারি ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

এদিকে রাজস্ব আদায়ের গতি মন্থর হওয়ায় সরকারি ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়ার চাপ বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। জুলাই-আগস্ট সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের চাহিদা কম থাকায় ঋণের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে খুব একটা সমস্যায় পড়ছে না। তবে সরকারি ঋণের সুদহার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা আমানতের সুদহারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে, যা ব্যাংকগুলোর আয় ও মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সামগ্রিকভাবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাজস্ব আদায়ে ধীরগতির কারণে সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা আগামীতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতের ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন মাসে সরকার ব্যাংক থেকে নিলো ২৪ হাজার কোটি

আপডেট সময় : ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ঋণ পরিশোধ করেছিল। বর্তমান অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের এ ঋণ নেওয়ার পরিমাণ চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিট ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন; তখন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিট ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। অর্থাৎ সেসময় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নতুন ঋণের চেয়ে পরিশোধই বেশি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাস শেষে সরকারি ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

এদিকে রাজস্ব আদায়ের গতি মন্থর হওয়ায় সরকারি ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়ার চাপ বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। জুলাই-আগস্ট সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের চাহিদা কম থাকায় ঋণের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে খুব একটা সমস্যায় পড়ছে না। তবে সরকারি ঋণের সুদহার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা আমানতের সুদহারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে, যা ব্যাংকগুলোর আয় ও মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সামগ্রিকভাবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাজস্ব আদায়ে ধীরগতির কারণে সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা আগামীতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতের ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে।