দণ্ডিত পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি: চিফ প্রসিকিউটর
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই রায় ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রায় অনুযায়ী সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি কিছু অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশনা রয়েছে রায়ে।
আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তারা যে দণ্ডপ্রাপ্ত, তা নিশ্চিত। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইন অনুযায়ী রায় কার্যকর করতে সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্রসিকিউটর আরও জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল এবং তার অধিকাংশ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং ব্যক্তিগত দায়ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে নেওয়া কারফিউ, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ কয়েকজন পলাতক আসামির বিভিন্ন মন্তব্য প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা অবগত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে অনুপস্থিত রয়েছেন। যারা অপরাধ করেছেন তারাই মূলত পলাতক থাকেন, তাই তাদের কোনো বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অপরাধী ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকলে প্রচলিত আইন মেনেই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে, আর এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও মন্তব্য করার কোনো অবকাশ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, নিয়ম অনুযায়ী রায় প্রকাশের পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। তবে ৩০ দিন পার হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার রায় বাস্তবায়নে যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং তখন তা বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর রায়টির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে মন্তব্য করেন। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় জড়িতদের শাস্তির বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পরই নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

























