নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, সেচ নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার খোয়া গেছে। তবে মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ১৫টি, জুলাইয়ে ১৩টি, আগস্টে ৯টি এবং সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আরও দুটিসহ মোট ৪০ থেকে ৪৫টি ট্রান্সফরমার চুরির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর, বড়তলী-বানিয়াহারী, তেঁতুলিয়া, সমাজ-সহিলদেও, সোয়াইর ও গাগলাজুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন অনেক খুঁটিতেই ট্রান্সফরমার নেই। কৃষকদের আশঙ্কা, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের আগে এসব ট্রান্সফরমার পুনরায় স্থাপন করা না হলে সেচ সংকটের কারণে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকবে।
চুরির শিকার কৃষকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের সহযোগিতা ছাড়া জীবন্ত লাইন থেকে এভাবে ট্রান্সফরমার চুরি করা প্রায় অসম্ভব। মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন রনু জানান, গত ১৮ আগস্ট রাতে তার সেচের ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়। একই ইউনিয়নের পেরিরচর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারটি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে পুনরায় কেনার সামর্থ্য তার নেই। সোয়াইর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের কৃষক বজলুর রশিদ খান জানান, তার ট্রান্সফরমারটি দুইবার চুরি হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে কোথাও গিয়েই তিনি কোনো সমাধান পাননি।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিনা মূল্যে ট্রান্সফরমার দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম রফিকুল ইসলাম। তবে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি ফি জমা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ট্রান্সফরমার সংযোগ দেওয়া সম্ভব। এদিকে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানিয়েছেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছে। চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং এই অপরাধ দমনে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, এ সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫টি।
























