চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পূর্ণ ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। এর আওতায় মূলত চীন ও ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনের খুঁটিনাটি ও ভোটাভুটি
স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা এই বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’।
- রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা।
- নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা অবৈধ ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
- রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আইনি সুযোগ।
এই বিলের অন্যতম মূল উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। দীর্ঘ আলোচনার পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করতে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে গতি পায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই বিলটি পাসের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বিলটির প্রয়োগ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে কিছুটা মতভেদও রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিক্স বিলটির কিছু বিধানের সমালোচনা করেছেন। কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের এমন ক্ষমতা দেওয়া হলে এর প্রয়োগের পরিধি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তবুও বর্তমানে বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ খাতের ওপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন সংকটের সৃষ্টি হতে পারে, যা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। ট্রাম্প সই করার পরপরই এই কঠোর ক্ষমতাগুলো কার্যকর হবে এবং এর ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।























