ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ভিয়েতনামের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু: শেখ হাসিনাসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা মেঘ হয়ে ঝরে পড়ার আকুতি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, সেচ নিয়ে শঙ্কা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে রোমহর্ষক সাক্ষ্য সাবেক সেনা কর্মকর্তার চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের গ্রীষ্মে রেকর্ড যাত্রী পরিবহন এমিরেটসের, শীতের বুকিংয়েও জোর সম্ভাবনা জাতিসংঘ অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র শ্রীরামপুরে জনসভার অনুমতি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল

রংপুর সিআইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়

  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুর সিআইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলাবাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং নিজ দপ্তরে বসেই মাদক সেবনের মতো চাঞ্চল্যকর কর্মকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে অফিসের একটি পক্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে গা ঢাকার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অফিসটির একটি সূত্র জানিয়েছে, কনস্টেবল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই এসব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা জমি কেনাবেচা ও ফ্ল্যাট বাণিজ্যের পাশাপাশি মামলার দালালিতেও সক্রিয়। বিশেষ করে আদালতে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় বাদীপক্ষের হয়ে বিবাদীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কনস্টেবল সাদ্দাম, সৈয়দ আলী, নাইমুর, হাসানুজ্জামান ও তরিকুলের বিরুদ্ধে। এছাড়াও এসআই আহাদ ও অফিস সহকারী আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে নীলফামারীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজনকে ধরে এনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে টাকা-পয়সার দফারফা করার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমিত চৌধুরী সরাসরি সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি গাড়ির জ্বালানি বাবদ বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের চিত্রও উঠে এসেছে। সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের হিসাবে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই ১৫০ লিটার, ২৪ আগস্ট ১৫০ লিটার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮০ লিটার এবং ২১ নভেম্বর ১৫০ লিটার তেল উত্তোলনের হিসাব দেখানো হয়েছে। একই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাছ ধরার অজুহাতে ধাপেরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুরের রামসাগরে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ দেখানো হয়েছে। তাছাড়া অফিসের পাঁচটি মোটরসাইকেলের মধ্যে কয়েকটি অচল থাকলেও প্রতিটি বিপরীতে মাসে ৩০ লিটার করে মোট ১৫০ লিটার এবং নষ্ট ট্রাকের জন্য ২০০ লিটার ও জিপের জন্য ৫০০ লিটার জ্বালানি দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। কনস্টেবল সাদ্দাম প্রতি মাসে এই তেল বিক্রির ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে মাত্র দুই হাজার টাকা ড্রাইভারদের বকশিশ হিসেবে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদ্দাম দাবি করেছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে রসিদে স্বাক্ষর করেছেন, তবে নিজে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।

সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাদক ও মদ্যপানের অভিযোগ পুরোনো। ২০১৮ সালের ১ জুন রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে মাতলামির অভিযোগে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। এরপর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে ডোপ টেস্ট করা হলে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলে। বিভাগীয় মামলার পর তাকে রাজশাহী থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়, সেখানেও একই অভিযোগে তার নাম এসেছে। এছাড়া রংপুর মেট্রো ও জেলার বিভিন্ন মদের দোকান ও ভাটিখানা থেকে কনস্টেবলদের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন বলে জানা গেছে।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা আগের সরকারের সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তখন বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্র নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। আপন মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী তুলি রানীর সঙ্গে পরকীয়া ও পরবর্তীতে তাকে তুলে এনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগসহ নানা অসদাচরণের কারণে বর্তমানে তাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পদাবনতি দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, রংপুর জেলা ও মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার পদায়ন মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাকে দ্রুত অপসারণ করে দক্ষ কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানান তিনি। সিআইডি হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (অ্যাডমিন) মিয়া মাসুদ করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমিত চৌধুরী। তিনি তার অফিসের সকল ইন্সপেক্টর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ডেকে সবার সামনে দাবি করেন যে, তিনি কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি করেননি। তার দাবি, শত্রুতাবশত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে এবং তিনি অভিযোগকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব অনিয়মের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে অফিসের একটি অংশ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের আবরণ তৈরির চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্রটি আরো দাবি করে, আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিজমাসংক্রান্ত মামলায় বাদীপক্ষের হয়ে বিবাদীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া একই বছরের ১৭ জুলাই ধাপেরহাটের নীলদরিয়া, ১৫ আগস্ট নীলফামারীর ঢেলাপীর এবং দিনাজপুরের রামসাগরে সরকারি গাড়ি নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুর সিআইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর সিআইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলাবাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং নিজ দপ্তরে বসেই মাদক সেবনের মতো চাঞ্চল্যকর কর্মকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে অফিসের একটি পক্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে গা ঢাকার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অফিসটির একটি সূত্র জানিয়েছে, কনস্টেবল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই এসব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা জমি কেনাবেচা ও ফ্ল্যাট বাণিজ্যের পাশাপাশি মামলার দালালিতেও সক্রিয়। বিশেষ করে আদালতে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় বাদীপক্ষের হয়ে বিবাদীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কনস্টেবল সাদ্দাম, সৈয়দ আলী, নাইমুর, হাসানুজ্জামান ও তরিকুলের বিরুদ্ধে। এছাড়াও এসআই আহাদ ও অফিস সহকারী আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে নীলফামারীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজনকে ধরে এনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে টাকা-পয়সার দফারফা করার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমিত চৌধুরী সরাসরি সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি গাড়ির জ্বালানি বাবদ বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের চিত্রও উঠে এসেছে। সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের হিসাবে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই ১৫০ লিটার, ২৪ আগস্ট ১৫০ লিটার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮০ লিটার এবং ২১ নভেম্বর ১৫০ লিটার তেল উত্তোলনের হিসাব দেখানো হয়েছে। একই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাছ ধরার অজুহাতে ধাপেরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুরের রামসাগরে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ দেখানো হয়েছে। তাছাড়া অফিসের পাঁচটি মোটরসাইকেলের মধ্যে কয়েকটি অচল থাকলেও প্রতিটি বিপরীতে মাসে ৩০ লিটার করে মোট ১৫০ লিটার এবং নষ্ট ট্রাকের জন্য ২০০ লিটার ও জিপের জন্য ৫০০ লিটার জ্বালানি দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। কনস্টেবল সাদ্দাম প্রতি মাসে এই তেল বিক্রির ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে মাত্র দুই হাজার টাকা ড্রাইভারদের বকশিশ হিসেবে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদ্দাম দাবি করেছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে রসিদে স্বাক্ষর করেছেন, তবে নিজে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।

সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাদক ও মদ্যপানের অভিযোগ পুরোনো। ২০১৮ সালের ১ জুন রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে মাতলামির অভিযোগে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। এরপর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে ডোপ টেস্ট করা হলে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলে। বিভাগীয় মামলার পর তাকে রাজশাহী থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়, সেখানেও একই অভিযোগে তার নাম এসেছে। এছাড়া রংপুর মেট্রো ও জেলার বিভিন্ন মদের দোকান ও ভাটিখানা থেকে কনস্টেবলদের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন বলে জানা গেছে।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা আগের সরকারের সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তখন বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্র নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। আপন মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী তুলি রানীর সঙ্গে পরকীয়া ও পরবর্তীতে তাকে তুলে এনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগসহ নানা অসদাচরণের কারণে বর্তমানে তাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পদাবনতি দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, রংপুর জেলা ও মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার পদায়ন মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাকে দ্রুত অপসারণ করে দক্ষ কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানান তিনি। সিআইডি হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (অ্যাডমিন) মিয়া মাসুদ করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমিত চৌধুরী। তিনি তার অফিসের সকল ইন্সপেক্টর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ডেকে সবার সামনে দাবি করেন যে, তিনি কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি করেননি। তার দাবি, শত্রুতাবশত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে এবং তিনি অভিযোগকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব অনিয়মের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে অফিসের একটি অংশ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের আবরণ তৈরির চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্রটি আরো দাবি করে, আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিজমাসংক্রান্ত মামলায় বাদীপক্ষের হয়ে বিবাদীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া একই বছরের ১৭ জুলাই ধাপেরহাটের নীলদরিয়া, ১৫ আগস্ট নীলফামারীর ঢেলাপীর এবং দিনাজপুরের রামসাগরে সরকারি গাড়ি নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।