গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মঞ্চে মুখ খুললেন এড শিরান
- আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে আয়োজিত কনসার্টে গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান। সাধারণত কনসার্টের শুরুতে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে জানিয়েছেন তিনি। গাজা যুদ্ধ এবং র্যাপার ম্যাকলমোরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অবস্থায় মঞ্চে ফিরে শিরান স্বীকার করেন যে, তার ক্যারিয়ারে এমন বড় কোনো বিতর্কের মুখোমুখি তাকে আগে হতে হয়নি। সংগীতকে তিনি বরাবরই মানবিকতা ও ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে এসেছেন, কিন্তু চলমান মানবিক সংকটের মুখে নিজের অনুভূতি চেপে রাখা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়নি।
বক্তব্যের সময় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হওয়া হামলাকে শিরান ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। অঞ্চলটির পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি উপস্থিত দর্শকদের সামনে ভালোবাসা, আশা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তব্যের রেশ ধরেই তিনি তার জনপ্রিয় গান ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ পরিবেশন করেন, যেখানে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।
কনসার্টে উপস্থিত ৭৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী সিন্ডি লুসেন্তে শিরানের এই ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্যকে ‘বাকপটু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, অনেকেই ধারণা করেছিলেন শিরান হয়তো কনসার্ট বাতিল করবেন এবং টিকিট ফেরত নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন, কিন্তু গায়কের ওপর আস্থা ছিল বলেই তিনি যোগ দেন। এদিকে, শিরানের বর্তমান ‘লুপ’ সফর নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সফরের সহযোগী শিল্পী মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বললে তাকে সফরের বাকি অংশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তোপের মুখে পড়া শিরান স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্তটি তার ব্যক্তিগত নয়। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, স্টেডিয়ামের মালিকপক্ষের প্রবল চাপের কারণেই সফরের আয়োজক এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। তবে এই সাফাই গাওয়ার পরও সমালোচকদের একাংশ তাকে করপোরেট স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। অনেকের মতে, তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চেয়ে ব্যবসায়িক লাভকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিতর্কের জেরে শিরানের সফর থেকে বেশ কয়েকজন সহযোগী শিল্পী ও ব্যান্ড সদস্যও সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টটি তাকে একাই সামলাতে হয়েছে। স্টেডিয়ামের ভেতরে সংগীতের পরিবেশ থাকলেও বাইরে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। একদিকে সংগীতের মঞ্চে মানবিকতার ডাক, অন্যদিকে কনসার্টের বাইরের রাজনৈতিক উত্তাপ—সব মিলিয়ে এবারের ফিলাডেলফিয়া সফরটি শিরানের ক্যারিয়ারে একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে নিজের সংগীতজীবনে রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে চলার অবস্থান নিয়েও কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি এতদিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার হতে চাননি, কারণ তার কাছে সংগীত ও অনুষ্ঠান ছিল ঐক্য ও মানবিকতার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গানের সময় স্টেডিয়ামে আতশবাজি জ্বলে ওঠে এবং বড় পর্দায় ইংল্যান্ডের গ্রামীণ জীবনের দৃশ্য দেখানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুরো পরিবেশে বিতর্ক পেছনে ফেলে অনুষ্ঠানকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রবল চেষ্টা দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিরানের এই বক্তব্যের পরও তার বিরুদ্ধে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ব্যান্ড ‘বিওগা’ও ম্যাকলমোরের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে যাওয়ার কথা জানায়।

























