ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াশিংটন না ব্রাসেলস, বাংলাদেশকে বেছে নিতে হবে না

  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকাকে কখনো ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, ব্রাসেলস সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। এর মানে এই নয় যে ফ্রান্স সব কিছু মেনে নেবে, তবে তারা কখনোই এমন কোনো শর্ত দেয় না যাতে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ব্রাসেলসকে বেছে নিতে হয়। ফ্রান্স ওয়াশিংটনের সঙ্গে একত্রে কাজ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ফ্রান্স পরস্পরবিরোধী জোটের সংঘাত হিসেবে দেখে না। দেশটি ‘পশ্চিম বনাম পূর্ব’ কিংবা ‘উত্তর বনাম গ্লোবাল সাউথ’-এর মতো বিভাজনে বিশ্বাস করে না। ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও, তিনি মনে করেন প্রতিটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। কোনো জোটে যুক্ত থাকা মানেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

এ ক্ষেত্রে তিনি ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোলের ন্যাটো-সংক্রান্ত অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার মতে, কোনো সামরিক জোটের সদস্য হয়েও একটি দেশ নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স যখন কোনো দেশকে রাফাল সরবরাহ করে, তখন বিমানটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও চাবি ওই দেশের হাতেই থাকে। ফ্রান্স কখনো তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না বা কোনো কাজে বাধা প্রদান করে না; এভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখে।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত ফ্রান্স। তিনি আরও বলেন, এই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি ২০২৩ সালের বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ বিবৃতিতেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে স্থিতিশীল ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিস্তৃত সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়াশিংটন না ব্রাসেলস, বাংলাদেশকে বেছে নিতে হবে না

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকাকে কখনো ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, ব্রাসেলস সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। এর মানে এই নয় যে ফ্রান্স সব কিছু মেনে নেবে, তবে তারা কখনোই এমন কোনো শর্ত দেয় না যাতে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ব্রাসেলসকে বেছে নিতে হয়। ফ্রান্স ওয়াশিংটনের সঙ্গে একত্রে কাজ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ফ্রান্স পরস্পরবিরোধী জোটের সংঘাত হিসেবে দেখে না। দেশটি ‘পশ্চিম বনাম পূর্ব’ কিংবা ‘উত্তর বনাম গ্লোবাল সাউথ’-এর মতো বিভাজনে বিশ্বাস করে না। ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও, তিনি মনে করেন প্রতিটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। কোনো জোটে যুক্ত থাকা মানেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

এ ক্ষেত্রে তিনি ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোলের ন্যাটো-সংক্রান্ত অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার মতে, কোনো সামরিক জোটের সদস্য হয়েও একটি দেশ নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স যখন কোনো দেশকে রাফাল সরবরাহ করে, তখন বিমানটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও চাবি ওই দেশের হাতেই থাকে। ফ্রান্স কখনো তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না বা কোনো কাজে বাধা প্রদান করে না; এভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখে।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত ফ্রান্স। তিনি আরও বলেন, এই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি ২০২৩ সালের বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ বিবৃতিতেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে স্থিতিশীল ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিস্তৃত সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।