প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
সমাজের নানা প্রতিকূলতা জয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিনজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি ১৪ অক্টোবর, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নিজ নিজ কর্ম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এই ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত প্রতিটি কার্যক্রমের বর্ণনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ১৪ অক্টোবর (বুধবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয। সাক্ষাৎকালে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে। বুয়েট থেকে পড়ালেখা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
এদের মধ্যে অন্যতম হলেন বুয়েট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী নায়লা শারাফ। ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষিত করার মহতী ব্রত বেছে নেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি তার এই অচলিত পথের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎ করা আরেকজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হলেন নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্মগতভাবে দুই হাত না থাকলেও তিনি দমে যাননি, বরং পা দিয়ে লেখালেখি রপ্ত করেছেন। নিজের এই লড়াইকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের জমানো অর্থ এবং পৈতৃক জমি বিক্রির টাকায় গড়ে তোলা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিনি তার স্কুল প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরলে, প্রধানমন্ত্রী স্কুল ভবন নির্মাণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকলের অসামান্য উদ্যোগ ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশ গঠনের জন্য আপনাদের মতো মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এমন উদ্যোগ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। তাদের কার্যক্রম যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের বিষয়টি স্পষ্ট হলো। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।





















