দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই অত্যন্ত তৎপর। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে সোমবার আচমকাই ঢাকা ত্যাগ করে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান এই কূটনীতিক। তিন দিনের এই সফরসূচিতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাধারণত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকে না।
নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে মোদির সঙ্গে এটি তার দ্বিতীয় বৈঠক। ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ত্রিবেদীকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর মূল উদ্দেশ্যই ছিল সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা শুরুতে এই নিয়োগে আপত্তি জানালেও বর্তমান বাস্তবতায় মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর সরাসরি যোগাযোগ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী অংশের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
দিল্লিতে থাকা পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিবেদীর এই সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়; বরং বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে তার বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় এগিয়ে নেয়ার উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও সুদৃঢ় করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক বোঝাপড়া, নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ সহযোগিতার চলমান বিষয়গুলো সেনাপ্রধানের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। ত্রিবেদী এরপর ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সির কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে একটি প্রস্তাবনার ইঙ্গিত দিতে পারেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন স্তরে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি বৈঠক শুরু হচ্ছে, যেখানে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যোগ দিচ্ছে। এই সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের একাংশ মনে করছেন, ঢাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে হাসিনার ঢাকায় ফেরা নিয়ে মনোভাবের যে আঁচ পেয়েছেন তা তিনি দিল্লিকে জানাতে এসেছেন।




















