নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার
- আপডেট সময় : ০৪:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় বাজারগুলোতে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির সিলিন্ডার। এতে রান্নার জ্বালানি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলো। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা, অন্যদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হচ্ছে পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। সীমিত পরিমাণে সিলিন্ডার আসায় দ্রুত তা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতে সংসারের ব্যয় বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক রান্নাবান্না।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ রূপগঞ্জের বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত দামের চেয়ে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ৩৬৩ থেকে ৪৬৩ টাকা বা তারও বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। মাসাব এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী আলেয়া বেগমের ভাষ্য, বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা না থাকায় উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে তিনি বাধ্য হচ্ছেন। একই পরিস্থিতির কথা জানালেন রোকেয়া বেগম নামের আরেক গৃহিণী, যিনি ২ হাজার ৩০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। তাদের দাবি, কয়েক দোকান ঘুরেও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকান ও ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সংকটের প্রভাব থেকে মুক্ত নন। চা দোকানি সেলিম মিয়া জানান, তাঁকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৬৩ টাকা বেশি খরচ করে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে তিনি দোকানের পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না, ফলে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা সজীব আহম্মেদের দাবি, পাইকারি পর্যায়েই তাঁদের ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ডিলাররা বাড়তি দাম নিলেও কোনো রসিদ প্রদান করেন না।
ডিলারদের পক্ষ থেকে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফ্রেশ গ্যাসের ডিলার সালমান এন্টারপ্রাইজের মালিক জানান, কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না বলেই বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা লাভে বিক্রির দাবি করেন তিনি। এদিকে, তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, চলতি মাসের ১ তারিখের পর আর নতুন কোনো সরবরাহ পাননি। তাঁর ভাষ্যমতে, তাঁরা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, গত মাসের ১১ তারিখে কিছু সিলিন্ডার পেয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহান। তিনি জানান, নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।























