ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বাড়াল পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ১২:১৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
ভারতীয় উড়োজাহাজের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (পিএএ) নতুন ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ (নোটাম) অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত ভারতীয় বিমানগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। গত ১৭ অক্টোবর এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণেই এই বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) নতুন করে ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ (নোটাম) জারি করে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিমান পরিবহন খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই দেশের এভিয়েশন খাতের এই অচলাবস্থার শুরু মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জেরে ওই বছরের ২৩ এপ্রিল পাকিস্তান প্রথম ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে ভারতও ৩০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পেহেলগামের ওই ঘটনার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং ঘটনার স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানায়। ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে, যখন ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক হামলা চালায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে অভিযান পরিচালনা করে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, সেই সংঘাতের সময় তারা ভারতের তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ মোট আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছিল, যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টানা ৮৭ ঘণ্টা সামরিক উত্তেজনার পর ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে বিমান পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা ফ্লাইটের সময় এবং জ্বালানি খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত ও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়িত্ব দুই দেশের এভিয়েশন সেক্টরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইটের দূরত্ব ও সময় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ, পরিচালন ব্যয় এবং সময়সূচি ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।




















